মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র দেশজুড়ে ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে ফিলিপােইনের প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে এই সংকটের কারণে দেশের জ্বালানি সরবরাহে ‘আসন্ন বিপদের’ কথা উল্লেখ করেন।
মার্কোস জুনিয়ার বলেন, “জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে সরকার বিদ্যমান আইনের আওতায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে পারবে।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা এমন সময় এলো যখন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মার্কোস প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার প্রতিবাদে ফিলিপাইনের পরিবহন শ্রমিক, যাত্রী এবং ভোক্তা সংগঠনগুলো আগামী বৃহস্পতিবার থেকে দুই দিনের ধর্মঘট পালনের পরিকল্পনা করছে।
জরুরি অবস্থা জারির আওতায় জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধ, কৃষি পণ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সুশৃঙ্খল চলাচল, সরবরাহ এবং প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই ঘোষণাটি এক বছরের জন্য বলবৎ থাকবে। এটি সরকারকে সময়মতো এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য ক্রয়ের অনুমতি দেবে এবং প্রয়োজনে চুক্তির অর্থের কিছু অংশ অগ্রিম পরিশোধের ক্ষমতা দেবে।
একই সঙ্গে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মজুতদারি, মুনাফাখোরি এবং সরবরাহ নিয়ে কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী শ্যারন গারিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, বর্তমান ব্যবহারের হার অনুযায়ী দেশে এখনও প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুদ রয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকার বাফার স্টক তৈরির জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভেতরে এবং বাইরের দেশগুলো থেকে ১০ লাখ ব্যারেল তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত হোসে ম্যানুয়েল রোমুয়ালদেজ জানান, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো থেকে তেল কেনার অনুমতি বা ছাড় পেতে ম্যানিলা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাজ করছে। ইরান বা ভেনেজুয়েলার তেল কেনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সব বিকল্পই বিবেচনা করা হচ্ছে।”
এদিকে, সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে ফিলিপাইনের পরিবহন ইউনিয়ন ও বিরোধী দলীয় সিনেটররা। তাদের অভিযোগ, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব কমাতে সরকারের কাজের কোনো সমন্বয় নেই।
পরিবহন ফেডারেশনের মতে, সরকার জরুরি অবস্থা জারি করে সংকটের মূল কাঠামোগত সমস্যাগুলোকে এড়িয়ে গেছে। তারা অবিলম্বে তেলের ওপর থেকে এক্সাইজ ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
ফিলিপাইনের এক বাসিন্দা রেনাতো রেইয়েস জুনিয়রের মতে, এই ঘোষণা লাগামহীন তেলের দাম এবং গণপরিবহনের ওপর এর প্রভাব নিয়ে মৌলিক কোনো সমাধান দিচ্ছে না।
মার্কোস সরকার বর্তমানে কিছু শহরে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের সুযোগ দিচ্ছে এবং ক্রমবর্ধমান তেলের দাম সামলাতে মোটরসাইকেল ট্যাক্সিচালক ও অন্যান্য গণপরিবহন শ্রমিকদের জন্য দেশব্যাপী পাঁচ হাজার পেসো (প্রায় ৮৩ ডলার) ভর্তুকি দেওয়া শুরু করেছে।