ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চললেও ইরানের তেল রপ্তানির ওপর ভিত্তি করে দেশটির অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও হরমুজ প্রণালির কৌশলগত সুবিধা ব্যবহার করে ইরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন ডলার আয় করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান দুইভাবে লাভবান হচ্ছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, ইরান তাদের ‘ইরানিয়ান লাইট’ তেল চীনের বাজারে গত এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম ছাড়ে বিক্রি করছে।
ইরানের ফেব্রুয়ারি মাসের আয় প্রতিদিন গড়ে ১১৫ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে মার্চ মাসের আয় প্রতিদিন গড়ে ১৩৯ মিলিয়ন ডলার।
উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলো যখন অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে, তখন ইরান খারগ দ্বীপ টার্মিনাল থেকে নির্বিঘ্নে তেল বোঝাই করে ট্যাঙ্কার পাঠাচ্ছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, মার্চ মাসে খারগ দ্বীপে ট্যাঙ্কার নোঙর করার গতি আরো বেড়েছে। এমনকি হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত জাস্ক টার্মিনাল থেকেও ইরান তেল পাঠানো শুরু করেছে।এছাড়া এই জলপথ অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ট্রানজিট ফি আরোপ করে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করছে তেহরান।
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, তেলের বাজারে যুদ্ধের প্রভাব কমাতে ওয়াশিংটন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে।
এনডিটিভিতে প্রকাশিত খবর।
কুইন্সি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক রিচার্ড নেফিউর মতে, ‘ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত ইরানকে তেল বিক্রি করার জন্য অনুনয় করছে।’ যদিও ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালি না খুললে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে, কিন্তু পরে তিনি তেহরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনার’ কথা উল্লেখ করে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এই বিশাল অঙ্কের তেল রাজস্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চালানো প্রতিশোধমূলক হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে এই অর্থ ব্যয় করছে তেহরান।
অন্যদিকে, কাতার, সৌদি আরব বা কুয়েতের মতো দেশগুলো যখন উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে বা তাদের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো (সাউথ পার্স গ্যাস ক্ষেত্র ছাড়া) মূলত হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তারা ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছেন, যা যুদ্ধ শেষ করার ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ, এনডিটিভি