আন্তর্জাতিক

মমতাকে তুলাধুনা অমিত শাহর, ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ বিতাড়নের হুমকি

কলকাতায় বসেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলাধুনা করে গেলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, অর্থনৈতিক দুর্দশা, নারীদের নিরাপত্তাহীন এবং অনুপ্রবেশকারীদের অভয়ারণ্য তৈরির অভিযোগ তুললেন তিনি। সেই সঙ্গে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ এসআইআরের পক্ষে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরে সাফ বলে গেলেন, ভোটার তালিকা নাম থাকলে তাদের ঘাড় ধরে দেশ ছাড়া করবেন। এটাই বিজেপির সংকল্প। 

পশ্চিমবঙ্গে মমতা সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলের অনিয়ম-দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি বিশাল ফিরিস্তি নিয়ে ২৮ মার্চ কলকাতায় সংবাদ সম্মেলনে বসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডানহাত খ্যাত অমিত শাহ। এই অভিযোগনামাকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে চার্জশিট হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

অমিত শাহ প্রধান অভিযোগ,পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ গোটা ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

বিজেপির এই ধুরন্ধর নেতা জোর গলায় বলেছেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে আমরা পরিষ্কার বলে দিতে যাই, কেবল ভোটার তালিকা থেকে নয়, গোটা দেশ থেকে একজন একজন করে অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে দেশের বাইরে পাঠানোর সংকল্প নিয়েছি এবং এটাই আমাদের দলের অ্যাজেন্ডা।”

অমিত শাহ বলেন, আসামে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর অনুপ্রবেশ ইস্যু একেবারে শেষ হয়ে গেছে। কেবল একটাই রাস্তাই এখনো খোলা রয়েছে, যেখান দিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা প্রবেশ করে গোটা দেশের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ছে এবং দেশের সুরক্ষা হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।' 

তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশকারীরা শুধু দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই চিন্তার বিষয় নয়, এই অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় গরিব শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে থাবা বসিয়েছে, তাদের খাদ্যে থাবা বসিয়েছে। আমি জানি, দিদি হয়তো বিএসএফের ঘাড়ে দোষ চাপাবেন। বিএসএফ তখনই অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে পারে, যেখন সীমান্তে কাঁটাতার থাকে। আন্তর্জাতিক সীমান্তে এখনো পর্যন্ত ৬০০ কিলোমিটার অরক্ষিত আছে কিন্তু রাজ্য সরকারকে বলার পরেও জমি দিচ্ছে না। বিজেপি সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই সমস্ত অরক্ষিত সীমান্তে কাঁটাতার লাগিয়ে দেওয়া হবে এবং অনুপ্রবেশ ঠেকানো হবে।” 

সংখ্যালঘু তোষণ নিয়ে অমিত শাহর প্রশ্ন, “ওবিসি সংরক্ষণে মুসলমান ছাড়া আর অন্য কোনো সম্প্রদায়ের পিছিয়ে পড়া মানুষ কি নেই? ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ হবে? এই জিনিস চলতে পারে না। অনুপ্রবেশকারীদের তোষণের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের সুরক্ষা দুর্বল হয়ে গেছে। বিভিন্ন পণ্য ও জাল নোট পাচার ভারতের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। আজ গোটা রাজ্যে এই তোষণের রাজনীতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।” 

নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নিজেও একজন নারী। কিন্তু তার শাসনামলে নারীদের অবস্থার সবচেয়ে খারাপ। নারীদের বিরুদ্ধে যারা অত্যাচার করে সেই অপরাধীদের তৃণমূলের নেতারা আশ্রয় দেয়।”

অমিত শাহের অভিযোগ, “এই চার্জশিট গত ১৫ বছরের তৃণমূলের করা অন্ধকারময় কর্মকাণ্ডের একটি সংকলন। এটি এমন একটি শাসনের কাহিনী, যা 'সোনার বাংলা'র প্রতিশ্রুতি দিয়ে 'সিন্ডিকেট রাজ' প্রতিষ্ঠা করেছে এবং রাজ্যের মানুষকে শোষণ করেছে। ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সিন্ডিকেটগুলো রাজ্যবাসীকে যন্ত্রণা দিয়ে চলেছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছর ধরে দুর্নীতি, ভেদাভেদ, ভয়ের পরিবেশ চলছে। মিথ্যা এবং সহিংসতার আশ্রয় নিয়ে মমতা তার রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একটি নতুন সরকারের লক্ষ্যই থাকে রাজ্যকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া কিন্তু মমতা সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে খালি মিথ্যা কথা বলা, ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা। 

চার্জশিট পেশ করার পর নির্বাচনি ইশতেহার তুলে ধরেন অমিত শাহ। তাতে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি রোধ করা, সুশাসন ফিরিয়ে দেওয়ার মতো আশ্বাস দেওয়া হয়।