আন্তর্জাতিক

লেবাননে স্থল অভিযান আরো জোরদারের নির্দেশ নেতানিয়াহুর

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে আঞ্চলিক ‍উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার দেশের সামরিক বাহিনীকে দক্ষিণ লেবাননে অনুপ্রবেশ আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় সময় রবিবার (২৯ মার্চ) নর্দান কমান্ড থেকে এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, “আমি এইমাত্র বিদ্যমান নিরাপত্তা বাফার জোন আরও সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছি। আমরা উত্তরের (ইসরায়েলের) পরিস্থিতি আমূল পরিবর্তন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনের গাজা দখলের মডেলটি লেবাননেও প্রয়োগ করার ইঙ্গিত দিলেন। খবর আল-জাজিরার।

নেতানিয়াহুর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন ইসরায়েলি বাহিনী হিজবুল্লাহকে বিতাড়িত করার লক্ষ্যে লিটানি নদীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গত মার্চ মাসের শুরুতে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর পাল্টা হামলা চালিয়ে এই বৃহত্তর যুদ্ধে যোগ দেয়।

আল-জাজিরার দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরের প্রতিনিধি ওবায়দা হিতো জানান, গত কয়েক ঘণ্টায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে লড়াই ‘তীব্রতর’ হয়েছে। তিনি জানান, ইসরায়েলি সেনারা আল-মুহাইসিবাতের কাছে পূর্ব ফ্রন্টে কানতারা শহরের দক্ষিণে লিটানি নদীর একটি উপনদীর তীরে পৌঁছেছে।

হিতো এই ঘটনাকে একটি ‘বড় কৌশলগত পরিবর্তন’ হিসেবে মনে করেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েলি সেনারা কানতারার দক্ষিণে যে উপনদীতে পৌঁছেছে, তা মূল লিটানি নদী থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার এবং কোনো কোনো স্থানে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে। তাই হিজবুল্লাহর কাছ থেকে আমরা যা শুনছি, তাতে এটি একটি বড় যুদ্ধে রূপ নিতে যাচ্ছে।”

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৩৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১২৪ জন শিশু এবং ৩ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। কেবল শনি ও রোববারই ১০ জন উদ্ধারকর্মী ও ৩ জন সাংবাদিকসহ ৪৯ জন নিহত হয়েছেন।

আল জাজিরার বৈরুত প্রতিনিধির মতে, “দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় কোনো বিরতি নেই।” জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, এই সংঘাতে ইতিমধ্যে ১২ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।