আন্তর্জাতিক

এক মাসে তেল কোম্পানিগুলোর পকেটে সাধারণ মানুষের ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক মাস পর, আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংস্থা ৩৫০ ডট অর্গ-এর একটি নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে- জ্বালানির আকাশচুম্বী দামের কারণে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর হাতে চলে গেছে।

পরিবেশবাদী সংস্থাটি বলছে, এই যুদ্ধ ভয়াবহ প্রাণহানির পাশাপাশি এটাও তুলে ধরেছে যে, কীভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বহু মানুষের বিনিময়ে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষকে সমৃদ্ধ করে। খবর আল-জাজিরা ও এনভায়রো নিউজ নাইজেরিয়ার।

সংস্থাটির মতে, তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে বিশ্বজুড়ে ভোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের গত এক মাসে অতিরিক্ত ১০৪.২ থেকে ১১১.৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে যার তীব্র প্রভাব পড়েছে।

৩৫০ ডট অর্গ এই ক্ষতির হিসাব করেছে যুদ্ধের প্রথম মাসে তেল ও গ্যাসের গড় মূল্য, বিশ্বব্যাপী ব্যবহারের মাত্রা এবং বাড়তি দামের কারণে কমে যাওয়া চাহিদা বা রেশনিংয়ের মতো বিষয়গুলোকে সমন্বয় করে।

এই হিসাবে এখনো অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যেমন- সার ও খাদ্যের বর্ধিত মূল্য, অর্থনৈতিক উৎপাদন ও কর্মসংস্থান হ্রাস, বা জীবাশ্ম জ্বালানির অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি। ফলে, প্রকৃত অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ কেবল তেল ও গ্যাসের দাম থেকে হওয়া ক্ষতির চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৩৫০ ডট অর্গ-এর প্রধান নির্বাহী অ্যান জেলেমা বলেন, “যুদ্ধের কারণে পরিবার ও জনপদগুলো যে অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হচ্ছে, তার ওপর সাধারণ মানুষকে জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফার জোগান দিতে হচ্ছে। ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সাধারণ মানুষের পকেট থেকে সরাসরি কোম্পানিগুলোর হাতে চলে গেছে। এখন সময় এসেছে এসব কোম্পানির ‘অপ্রত্যাশিত মুনাফা’র ওপর কর আরোপ করার।”

সংস্থাটি আরও জানায়, এই হারানো ১১১ বিলিয়ন ডলার দিয়ে বিশ্বের প্রায় ১৫ কোটি নিম্ন-আয়ের পরিবারের জন্য সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো।

আগামী মাসে কলম্বিয়ায় বিশ্বনেতারা সমবেত হতে যাচ্ছেন জীবাশ্ম জ্বালানির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে। ৩৫০ ডট অর্গ আহ্বান জানিয়েছে যেন সরকারগুলো জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার জন্য বাধ্যতামূলক লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে (যেমন: সোলার ও ইলেকট্রিক যানবাহন) বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে।

সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগই হলো দাম স্থিতিশীল রাখার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের সংকট থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।