কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত উপ-হাইকমিশনার সিকদার মো. আশরাফুল রহমান বলেছেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে শহীদ জিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে অবিচল রয়েছেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কলকাতার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা ও মিডিয়া জগতের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
উপ-হাইকমিশনার তার বক্তৃতায় বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং স্বাধীনতা অর্জনের দিকনির্দেশনা দেয়। দেশের জনগণের অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ভারতের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের ভ্রাতৃপ্রতীম সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন।
এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বলে উল্লেখ করে উপ-হাইকমিশনার বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব শান্তিপূর্ণভাবে গণতন্ত্রের পথে উত্তরণ ঘটে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বার্থকে সম্মুখে রেখে প্রতিবেশী দেশ ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে সাফল্য লাভ করেন। তার এই পররাষ্ট্রনীতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাফল্যের সঙ্গে অনুসরণ করেন এবং বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেকসই উন্নয়নের লক্ষে শহীদ জিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে অবিচল রয়েছেন বলে ভারপ্রাপ্ত উপ-হাইকমিশনার জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এই সকল উদ্যোগের ফলে ‘স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ’ উপলব্ধি করা শুরু করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে ‘সাধারণ মানুষের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজের আলোকচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে উপ-হাইকমিশনার জানান, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের আলোকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে বাস্তববাদী এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে উন্নয়নের অংশীদারিত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন। অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পত্রের অংশবিশেষ পাঠ করে শোনান এবং দুই দেশের বন্ধুত্বের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (অপ্রচলিত ও নবায়নযোগ্য শক্তি উৎস বিভাগ এবং পর্যটন বিভাগ) বরুন কুমার রায়। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাধারণ মানুষের ত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।