ইরানের সংবাদমাধ্যম বলছে, ভূপাতিত করা যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৫৫ যুদ্ধবিমানের দুজন পাইলট নিখোঁজ রয়েছেন। তারা যদি ইরানের হাতে গ্রেপ্তার হয়, তাহলে এই ঘটনা যুদ্ধের টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তেহরানের আলজাজিরার সাংবাদিক আলী হাশিম।
তেহরান থেকে আলজাজিরায় তিনি লিখেছেন, দুই মার্কিন পাইলটের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না তারা। ঘটনাটি ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে ঘটেছে।
ইরানি গণমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো তথ্য অনুযায়ী, ওই দুই পাইলটকে খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্র দুটি আলাদা এলাকায় অনুসন্ধান অভিযান চালাচ্ছে। আবার ইরানও তাদের ধরার চেষ্টা করছে।
ইরান বলছে, আকাশপথে সরঞ্জাম ফেলা (এয়ারড্রপ) হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী ও ইরানের স্থলবাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে, যেখানে আক্রমণকারী বাহিনীর কিছু হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
ইরানি টেলিভিশন আরো বলেছে, কেউ যদি ওই পাইলটদের খুঁজে দিতে পারে, তাকে ৬৪ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে।
অর্থাৎ, তারা সাধারণ মানুষকেও এই অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নিতে আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে মার্কিন পাইলটদের ধরা যায়।
অবশ্যই, এটি এই যুদ্ধে একটি বড় মোড় ঘোরানো ঘটনা হতে পারে। কারণ, যদি ইরান ওই পাইলটদের গ্রেপ্তার করতে পারে, তাহলে এই সংঘাতে প্রথমবারের মতো তাদের হাতে মার্কিন যুদ্ধবন্দি থাকবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরানের হাতে ইসরায়েলি বা মার্কিনি বাহিনীর কেউ গ্রেপ্তার হননি। একইভাবে ইরানের বাহিনীরও কেউ ওই দুটি দেশের হাতে ধরা পড়েনি। ফলে যুদ্ধবন্দি নিয়ে দর কষাকষির কথা এই যুদ্ধে এখনো আলোচনায় আসেনি।
অবশ্য কূটনীতির মাঠে যুদ্ধ বন্ধের উপায় নিয়ে আলোচনা চলছে। আর যুদ্ধের মাঠে প্রতিনিয়ত ধ্বংসযজ্ঞের খবরও আসছে। এই যুদ্ধের ইতি কোথায়, তা এখনো পরিষ্কার নয়।