আন্তর্জাতিক

ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইসরায়েলের হামলা

ইসরায়েলের বিমান বাহিনী ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর সিএনএন ও আল-জাজিরার। 

এর আগে তেহরান জানিয়েছিল যে, শনিবার (৪ এপ্রিল) দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে বেশ কয়েকটি পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেন, “আমি আপনাদের কথা দিয়েছিলাম যে আমরা তেহরানের সন্ত্রাসী সরকারকে চূর্ণ করা অব্যাহত রাখব এবং আমরা ঠিক তা-ই করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা তাদের ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতার ৭০ শতাংশ ধ্বংস করার পর- যা তারা আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করত- এবার আমরা তাদের পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টগুলোতে হামলা চালিয়েছি। এই দুটি খাতই তাদের অর্থ উপার্জনের যন্ত্র, যা দিয়ে তারা আমাদের এবং পুরো বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অর্থায়ন করে।”

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের মাহশাহরের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সের অবকাঠামো এবং “বিস্ফোরক, ব্যালিস্টিক মিসাইল ও অন্যান্য অস্ত্র তৈরির উপকরণ উৎপাদনে ব্যবহৃত দুটি কেন্দ্রীয় স্থাপনায়” আঘাত হেনেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই অবকাঠামোর ক্ষতি এই অঞ্চলের সরকারের অস্ত্র তৈরির সক্ষমতাকে ব্যাহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।” অন্যদিকে, ইরানের মেহর নিউজ জানিয়েছে যে, আগুন ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং নিভিয়ে ফেলা হয়েছে’।

ইসরায়েল সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন শিল্প কেন্দ্র যেমন- ইস্পাত কারখানা, সিমেন্ট কারখানা ও পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

আল-জাজিরার জর্ডান সংবাদদাতার মতে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেতের জন্য অপেক্ষা করছে ইসরায়েল। পরবর্তী ধাপের হামলায় মূল লক্ষবস্তু হতে পারে, ইরানের জ্বালানি স্থাপনা।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বিতরণ নেটওয়ার্কে আঘাত হানার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি শুরু হতে পারে। 

রবিবার (৫ এপ্রিল) ইরানের আরদাবিল প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জার্মি ও জাফরাবাদ শহরে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৩ জন নিহত এবং ৩ জন আহত হয়েছেন।

ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। আরদাবিল প্রদেশটি উত্তর-পশ্চিম ইরানে অবস্থিত।