আন্তর্জাতিক

ইরানে নিখোঁজ মার্কিন সেনার উদ্ধার অভিযান নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

ইরানের দুর্গম এলাকায় ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ সেই ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর আল-জাজিরার।

রবিবার (৫ এপ্রিল) নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, “আমরা তাকে পেয়েছি! আমার প্রিয় দেশবাসী, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। আমাদের একজন অসাধারণ ক্রু মেম্বার অফিসার- যিনি একজন অত্যন্ত সম্মানিত কর্নেল- এখন নিরাপদ আছেন জানাতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত!”

ট্রাম্প আরও জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই কর্মকর্তার অবস্থান ‘দিনের ২৪ ঘণ্টা’ পর্যবেক্ষণ করছিল এবং ‘অত্যন্ত পরিশ্রমের সঙ্গে তার উদ্ধারের পরিকল্পনা” করছিল।

তিনি বলেন, তাকে ফিরিয়ে আনতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত ডজন ডজন বিমান’ পাঠিয়েছিল। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “তিনি কিছু আঘাত পেয়েছেন, তবে তিনি ঠিক হয়ে যাবেন।”

ট্রাম্প বলেন, “একটিও আমেরিকান প্রাণহানি বা কেউ আহত হওয়া ছাড়াই আমরা এই উভয় অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। এটি আবারও প্রমাণ করে যে, আমরা ইরানের আকাশে নিরঙ্কুশ আধিপত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছি।”

জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এই উদ্ধার অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ওয়াল্টজ এক্স-এ একটি পোস্টে বলেন, “আমেরিকা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। আমার স্পেশাল অপারেশন ভাইদের আরও একটি অসাধারণ কাজ।”

হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট ট্রাম্প ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন সেনাদের প্রশংসা করেছেন। এক্স-এ একটি পোস্টে তিনি বলেন, “আমাদের সৈন্যদের জন্য গর্বিত। আমাদের প্রেসিডেন্টের জন্য গর্বিত। আমেরিকান হিসেবে গর্বিত।”

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে অনুযায়ী, ইরান থেকে দ্বিতীয় মার্কিন বিমানসেনাকে উদ্ধারের বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সফল উদ্ধার অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করলেন। 

গত শুক্রবার ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পরপরই এর পাইলট নিরাপদে বের হতে (ইজেক্ট) করতে সক্ষম হন। মার্কিন বাহিনীর দুটি সামরিক হেলিকপ্টার ইরানের আকাশে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাইলটকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। দ্বিতীয় ক্রু সদস্য ৪৮ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ থাকার পর, মার্কিন বাহিনীর সফল অভিযান শেষে তাকেও আজ উদ্ধার করা হয়েছে। 

আল-জাজিরার ওয়াশিংটন ডিসি সংবাদদাতা জন হেন্ড্রেন বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমনটা বলেছেন, বিমানগুলো ওই বিমানসেনার অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছিল এবং তারা ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে তাকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে আকাশপথে দেশটির বাইরে নিয়ে আসা হয় এবং তিনি এখন নিরাপদ।”

ইরানে ঢুকে মার্কিন বাহিনীর উদ্ধার অভিযানটি ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। গত শুক্রবার এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের সময় একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ইরানি বাহিনীর গুলির মুখে পড়ে। এতে হেলিকপ্টারের কয়েকজন ক্রু আহত হন। এছাড়াও তল্লাশি অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন বাহিনীর একটি এ-১০ ওয়ারথগ বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই বিমানটির পাইলট পারস্য উপসাগরে ঝাঁপিয়ে পড়লে তাকেও পরে উদ্ধার করা হয়। এরপর এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে ‍উদ্ধারের জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

জন হেন্ড্রেন মতে, এটি ছিল একটি নাটকীয় অভিযান। সাধারণত মার্কিন সামরিক বাহিনী এই ধরনের অপারেশন অন্ধকারে শুরু করে, কিন্তু এটি শেষ হয়েছে দিনের আলোতে। তার মানে, সবকিছু ঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী চলেনি। জানা গেছে, উদ্ধারকারীরা যখন ওই বিমানসেনার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছিলেন, তখন সেখানে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। সেই গোলাগুলির মধ্যেই তারা তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন।

সিবিএস নিউজকে মার্কিন নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যারন ম্যাকলিল জানান, এই ধরনের মিশনের জন্য মার্কিন সেনাবাহিনী ‘এয়ার ফোর্স প্যারা রেসকিউম্যান’ নামক একটি উচ্চ শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত দল ব্যবহার করে। নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, জিপিএস ট্র্যাকার এবং বিশেষ এনক্রিপ্টেড রেডিও থাকে, যার মাধ্যমে তারা শত্রু পক্ষ থেকে আড়ালে থেকে নিজেদের অবস্থানের কথা উদ্ধারে আসা বাহিনীকে জানাতে পারেন।