ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক চাপ ও হুমকির মুখে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তেহরান।
দেশটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান যেকোনো ধরনের পাল্টা হামলা চালাতে প্রস্তুত এবং যুদ্ধের বিস্তার ঘটলে তার প্রভাব কেবল ইরানের সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না। খবর আল-জাজিরার।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বর্তমান সংঘাতকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কতগুলো ডাহা মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে এই যুদ্ধ চালাচ্ছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে বাঘাই বলেন, “ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে- এটি একটি মিথ্যা; ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি- এটি একটি মিথ্যা; এবং এই যুদ্ধ ইরানিদের একটি স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত করার জন্য- এটিও একটি মিথ্যা “
বাঘাই আরও যোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ভয় দেখিয়ে একটি অসম চুক্তিতে বাধ্য করার যে হুমকি দিচ্ছেন, তাতে ইরানিরা বিন্দুমাত্র বিচলিত নয়। তিনি বলেন, “ইরানিদের নিজেদের রক্ষা করার যথেষ্ট সামর্থ্য রয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই তারা প্রমাণ করেছে যে তারা যা বলে তা করে দেখায়; বিশেষ করে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকির মুখে তারা পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম।”
তিনি পুনরায় সতর্ক করে বলেন, “যুদ্ধের এই যন্ত্রণা কেবল ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলে তা অনুভূত হবে।”
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সিনিয়র উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি বৈশ্বিক জ্বালানি পথ নিয়ে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি হামলা আরও বাড়ায়, তাহলে হরমুজ প্রণালির বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
আলী আকবর বেলায়েতি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের একটি ভুল পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি অনুসারে তিনি বলেছেন, ‘প্রতিরোধের ঐক্যবদ্ধ কমান্ড’ এর কাছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি হরমুজ প্রণালির মতোই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম দেওয়ার পরই ইরানের পক্ষ থেকে এই কড়া বার্তা এল। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, মঙ্গলবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের ওপর ‘নরক নামিয়ে আনা’ হবে।
অন্যদিকে, ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা আগেই জানিয়েছে যে, তেহরানের সংহতিতে তারা এই নৌপথে হামলা চালাতে প্রস্তুত।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, ইরানি কর্মকর্তারা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনের আঁচ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা যদি ইরানের সমর্থনে জোড়ালো হামলা শুরু করে, তাহলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান সমুদ্রপথগুলো দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।