ইরানে চলমান দেশব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্নতা টানা ৩৭ দিনে পা রেখেছে। বৈশ্বিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস-এর মতে, এটি বিশ্বের ইতিহাসে দীর্ঘতম ও কঠোরতম ইন্টারনেট শাটডাউনের রেকর্ড।
সোমবার (৬ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জর্ডানের সংবাদমাধ্যম রোয়া নিউজ।
নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮৬৪ ঘণ্টা ধরে ইরানের বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, “ইরানের এই শাটডাউনটি স্থায়িত্ব এবং তীব্রতার দিক থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশের সমজাতীয় ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে। এটি এখন পর্যন্ত রেকর্ডকৃত দীর্ঘতম জাতীয় পর্যায়ের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট।”
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগে বিভিন্ন সময়ে নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক বা সাময়িক ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটলেও, ইরানের মতো পুরো দেশজুড়ে এমন দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব আর দেখা যায়নি। পর্যবেক্ষকরা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে এর তুলনা করে জানিয়েছেন যে, উত্তর কোরিয়া কখনোই বৈশ্বিক ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। ফলে, আগে থেকে সংযুক্ত কোনো দেশের হঠাৎ এমন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এক অনন্য ও উদ্বেগজনক উদাহরণ।
রোয়া নিউজের প্রতিবেদন বলছে, টানা ৩৭ দিনের এই অচলাবস্থায় স্থবির হয়ে পড়েছে ইরানের জনজীবন। মোবাইল এবং ব্রডব্যান্ড- উভয় ধরনের ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকায় ইরানের সাধারণ নাগরিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর ফলে অনলাইন নির্ভর ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, দেশের ভেতরে ও বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তথ্য আদান-প্রদান করতে না পারায় মানবিক সহায়তা ও জরুরি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যে থাকা একটি দেশে এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ব্ল্যাকআউট চরম মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এটি কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতিই করছে না, বরং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও ব্যাহত করছে।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক ব্যাখ্যা বা নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।