এবার ইরানের রেলপথে হামলার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। আজ মঙ্গলবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানিদের তাদের ‘নিরাপত্তার’ স্বার্থে স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত ট্রেন ব্যবহার না করার জন্য একটি সতর্কতা জারি করেছে। খবর আল-জাজিরার।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের ফার্সি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্টে বলেছে, ‘ট্রেনে ও রেললাইনের আশেপাশে উপস্থিতি আপনাদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলবে।”
আল-জাজিরার তেহরান সংবাদদাতা তৌহিদ আসাদীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানিরা তাদের রেলওয়ে ব্যবস্থার ওপর ইসরায়েলের জারি করা এ ধরনের হুমকির সম্মুখীন এবারই প্রথম হচ্ছে না। তবে এর মানে এই নয় যে ইরানিরা একে গুরুত্ব দিচ্ছে না। অতীতে এই ধরনের হুমকি বারবার বাস্তব হামলায় পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রেন স্টেশন ও অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থা যদি লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে, তাহলে এর মানে হলো ইরানে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।
ইরান কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে আসছে এবং গত কয়েক দিনে এই অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোতে যেকোনো হামলার জবাব ব্যাপক ও বিধ্বংসী প্রতিশোধমূলক হামলার মাধ্যমে দেওয়া হবে।
এদিকে, ইরানি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, তেহরানজুড়ে রাতভর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। তেহরানের পূর্বে পারদিস শহরের ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমে শাহরিয়ার একটি আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নয়জন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কিছুক্ষণ আগে এক বিবৃতিতে জানায়, তারা নতুন করে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের শিরাজ এলাকায় একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে যেখানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করা হতো।”
কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, “এই স্থাপনাটি ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উপকরণ এবং বিস্ফোরকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান উৎপাদনকারী সর্বশেষ কম্পাউন্ডগুলোর একটি।”