ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয় ঘোষণা করেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখার মার্কিন সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল সমর্থন করে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। খবর আল-জাজিরার।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে ইসরায়েল সমর্থন জানায়, যাতে এটি নিশ্চিত করা যায় যে ‘ইরান যেন আমেরিকা, ইসরায়েল, ইরানের আরব প্রতিবেশী এবং বিশ্বের জন্য আর কোনো পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সন্ত্রাসবাদী হুমকি হয়ে না থাকে’।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে তিনি যোগ করেন, এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ‘লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে না’।
নেতানিয়াহুর এই বিবৃতিটি এমন সময় এলো যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা ‘লেবাননসহ সর্বত্র অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে’। শরিফ বলেন, এই পদক্ষেপ ‘অবিলম্বে কার্যকর’ হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ইসরায়েল হত্যা করার পর এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে লেবাননে হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করায়, তার প্রতিশোধ হিসেবে ২ মার্চ লেবাননের তেহরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা শুরু করে। এর ফলে লেবাননও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনী এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলির পর ওই আগের যুদ্ধবিরতিটি চুক্তি হয়েছিল।
লেবানিজ কর্তৃপক্ষের মতে, ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দেড় হাজারেও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে আগ্রাসন শুরু করেছে এবং জানিয়েছে যে, তারা একটি তথাকথিত ‘বাফার জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল তৈরির জন্য আরও অঞ্চল দখল করার লক্ষ্য নিয়েছে।
নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার বিষয়ে হিজবুল্লাহ বা লেবাননের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।