আন্তর্জাতিক

ইরান-মার্কিন আলোচনার তোড়জোড়ে লকডাউনে ইসলামাবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এক অভাবনীয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনার বৈঠককে কেন্দ্র করে পুরো শহর ‘লকডাউনের’ কবলে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন আল-জাজিরার ইসলামাবাদ প্রতিনিধি কামাল হায়দার। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনাকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ‘ব্লু এরিয়া’ সহ প্রধান প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর সংলগ্ন ‘রেড জোন’ এলাকাটি সম্পূর্ণ সিলগালা করে দিয়েছে প্রশাসন। শহরের প্রতিটি প্রবেশপথে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা কড়া পাহারা দিচ্ছেন। আলোচনার সম্ভাব্য ভেন্যু ‘সেরেনা হোটেল’ থেকে সাধারণ অতিথিদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পুরো এলাকাটিকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।

পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম আজ সকালে নিশ্চিত করেছেন যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ইরানি প্রতিনিধি দল আজ রাতেই ইসলামাবাদ পৌঁছাবে। রাষ্ট্রদূত আরও জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর বারবার আইন লঙ্ঘনের কারণে ইরানি জনগণের মধ্যে গভীর সংশয় থাকা সত্ত্বেও তারা আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হয়েছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো ইরানি দল আলোচনার উদ্দেশ্যে কোনো দেশ সফর করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনায় যোগ দেবেন বলে জোরালো গুঞ্জন থাকলেও এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সরাসরি না আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। জেডি ভ্যান্সের এই সফরে আসা বা না আসা আলোচনার গুরুত্ব এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সংকেত হিসেবে কাজ করবে। 

দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হলেও ফলপ্রসূ ফলাফল নিয়ে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ১০ দফা দাবি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বোচ্চ শর্তগুলো মেনে নেওয়া ইরানের পক্ষে কঠিন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং এই অঞ্চলের কোথাও কোনো গুরুতর ঘটনা ঘটলে তা ভেস্তে যেতে পারে। বর্তমানে সারা বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের দিকে।