পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ৯১ লাখ মানুষের নাম। আসন্ন নির্বাচনে এই মানুষদের ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। যদিও নাম বাদ যাওয়ার পরে ট্রাইবুনালে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার হারানোকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার (৮ এপ্রিল) হুগলি জেলায় এক নির্বাচনি প্রচার সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপিকে নিশানা করে দ্বিচারিতার অভিযোগ করেন মমতা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপি ভোটের স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করলেও আদতে তারা কোনো ধর্মকেই শ্রদ্ধা করে না। তিনি বলেন, “এরা (বিজেপি) হজরত মুহাম্মদকে মানে না, মা দুর্গাকে মানে না; নিজেরা একটা মনগড়া ধর্ম তৈরি করেছে।” তিনি কটাক্ষ করে আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন সৌদি আরবে গিয়ে সেখানকার সম্রাটের গলা ধরে কোলাকুরি করেন তখন জাত যায় না। ইসরায়েল থেকে ইরান, ইরান থেকে আমেরিকা ঘুরে বেড়ান তখনও জাত যায় না। কেবল ভোটের সময় এলেই....। বাংলায় কথা বললেই মানুষকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ দাগিয়ে দেওয়া হয়।”
ভোটার তালিকা থেকে ৯১ লাখ নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্রীয় সরকারের এনআরসি কার্যকর করার কৌশল হিসেবে দেখছেন মমতা। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে জানান, বাদ পড়া তালিকার মধ্যে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, তপশিলি, রাজবংশী, মতুয়াসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘু ও জনজাতিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “নাম বাদ দেওয়ার খেলায় এনআরসি করার চক্রান্ত চলছে। ওই ছক্কাকে আমরা অক্কা করে দেবো।”
এসময় বিজেপিকে বিষধর সাপের সঙ্গে তুলনা করে জনগণকে সতর্ক করে মমতা বলেন, “বিজেপি দুই মুখো, কেউটে সাপ। গোখরো সাপ। ভয়ঙ্কর ছোবল। ওই কেউটে বা গোখরো সাপকে বাংলার ঘরে ঢুকতে দেবেন না। তাহলে এক ছোবলেই শেষ হয়ে যাবেন।”
তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জনসভা থেকে মমতাকে বলতে শোনা যায়, “রাজ্যের ২৯৪টা আসনে আমিই প্রার্থী। যদি সব প্রকল্প চালু রাখতে চান তবে তৃণমূলকে ভোট দিন। যাতে এই পাপীরা (বিজেপি) না আসতে পারে। বিজেপি বাংলাকে টার্গেট করতে গিয়ে দিল্লিও হারাবে। আমরা বাংলা জয় করে দিল্লিও দখল করব।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছে বিজেপিও। সাবেক বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে উসকে দিয়ে রাজ্যে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছেন।”
তিনি দাবি করেন, “পশ্চিমবঙ্গে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসা এখন সময়ের অপেক্ষা এবং কোনোভাবেই জিহাদীদের বসিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস পরিবর্তনের যে চক্রান্ত তা সফল হতে দেওয়া হবে না।”