আন্তর্জাতিক

উপসাগরীয় দেশগুলোকে যে বার্তা দিলেন খামেনি

ইরান তার উপসাগরীয় আরব প্রতিবেশীদের কাছে মার্কিন আধিপত্যের যুগের অবসান ঘটার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সিএনএন-কে এমনটাই জানিয়েছেন একজন আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এক্স প্ল্যাটফর্মে উপসাগরীয় দেশগুলো-যাদের ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে তাদের লক্ষ্য করে একটি বার্তা প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতিবার এক্স প্ল্যাটফর্মে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা বার্তায় বলা হয়েছে, “আমি ইরানের দক্ষিণের প্রতিবেশীদের বলছি: আপনারা একটি অলৌকিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করছেন। সুতরাং, ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন, বিষয়গুলো সঠিকভাবে বুঝুন, সঠিক পক্ষে থাকুন এবং শয়তানদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে অবিশ্বাসী হোন।”

বাহরাইনের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্য নীতি বিষয়ক সিনিয়র ফেলো হাসান আলহাসান জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পর, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আক্রমণের শিকার হওয়া সত্ত্বেও ইরান নিজেকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে দেখতে পারে।

তিনি বলেছেন, “মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণ মোকাবেলা করে, ওয়াশিংটনকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য করে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করার পর, তেহরান এখন এই অঞ্চলে আরও কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে।”

খামেনি বলেছেন, ইরান তার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ‘উপযুক্ত প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে’, যাতে তারা ‘ভ্রাতৃত্ব ও সদিচ্ছা’ প্রদর্শন করতে পারে।

তিনি লিখেছেন, “ঔদ্ধত্যপূর্ণ শক্তিগুলোকে ত্যাগ না করলে এটি বাস্তবায়িত হবে না, যারা আপনাদের অপমান ও শোষণ করার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করে না।”

বিশ্লেষক আলহাসান জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো, যারা যুদ্ধজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে, তারা সম্ভবত খামেনির এই পদক্ষেপকে সন্দেহের চোখে দেখবে।

আলহাসান বলেন, “যুদ্ধের চরম মুহূর্তে আরব উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকুক বা না থাকুক, যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে তারা ইরানের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করবে এমন সম্ভাবনা কম।”