আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে ট্রাম্পের তুরুপের তাস জেডি ভ্যান্স

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে এবং একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্প প্রশাসনের তুরুপের তাস হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। 

এর আগে মার্কিন দূত স্টিভ হুইটকক এবং জ্যারেড কুশনার ইরানিদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন; কিন্তু প্রশাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে তারা কাজটি সম্পন্ন করতে পারেননি। আর তাই এবার চূড়ান্ত মীমাংসাকারী হিসেবে হিসেবে ভ্যান্সকে আলোচনার দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে। 

শনিবার (১১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানান আল-জাজিরার ওয়াশিংটন ডিসি সংবাদদাতা জন হেনড্রেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের আগমন এবারের বৈঠককে ঘটনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ কিছু যোগ্যতার কারেণই তাকে পাঠানো হয়েছে। 

ভ্যান্স কট্টর ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে পরিচিত। শুরু থেকেই তিনি আমেরিকার বৈদেশিক যুদ্ধে জড়ানোর ঘোর বিরোধী ছিলেন। যুদ্ধের বিরুদ্ধে তার এই শক্ত অবস্থানের কারণে ইরানি প্রতিনিধিদের কাছে তিনি অপেক্ষাকৃত বেশি গ্রহণযোগ্য বা নমনীয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।

ভ্যান্স জানিয়েছেন, এই আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। জনসমক্ষে তা প্রকাশ না করলেও, বিশ্লেষকদের মতে ভ্যান্সের ঝুড়িতে প্রধানত দুটি বড় দাবি রয়েছে। এক নম্বর দাবিটি হলো, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালিটি ব্যবহার না করলেও ভ্যান্স ভালো করেই জানেন যে, ইরান যদি এই সমুদ্র পথ অবরুদ্ধ করে রাখে তাহলে অন্য সবার মতোই আমেরিকানদেরও তেলের সেই বর্ধিত মূল্য দিতে হবে।

দ্বিতীয়টি হলো, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্রের কাছাকাছি পৌঁছাতে না পারে, সেজন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ভ্যান্সের ভাষায় ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করা।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ক্রমেই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। একদিকে উচ্চমূল্য, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি- সব মিলিয়ে ভোটারদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন একটি সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছে।

বলা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যু ছাড়া বাকি সব বিষয়েই ভ্যান্স আলোচনা বা আপস করতে প্রস্তুত। ইরানের চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্প প্রশাসন ভ্যান্সকে অনুরোধ করেছে। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউসের এই ‘মীমাংসাকারী’ মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল সমীকরণের সমাধান করে ফিরতে পারেন কি না।