আন্তর্জাতিক

মার্কিন অবরোধের ঘোষণায় তেলের বাজারে অস্থিরতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সব বন্দরে অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম রবিবার রবিবার ৮ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩ ডলার ছাড়িয়েছে। খবর আল-জাজিরার। 

এর আগে গত মঙ্গলবার তেলের দাম ১১১ ডলার ছাড়ানোর পর, এবার আবারো ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করল। 

ট্রাম্প রবিবার (১২ এপ্রিল) ঘোষণা করেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে সব জাহাজের প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ করে দেবে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর তিনি এই পদক্ষেপ নেন।

তবে পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায় যে, তারা কেবল ইরানগামী এবং ইরান থেকে আসা জাহাজগুলোকেই বাধা দেবে। অন্যান্য জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটানো হবে না- যা ট্রাম্পের পূর্ণাঙ্গ অবরোধের হুমকির তুলনায় কিছুটা শিথিল অবস্থান বলে মনে করা হচ্ছে। সেন্টকমের তথ্যমতে, এই অবরোধ সোমবার পূর্বঞ্চলীয় সময় সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।

প্রসঙ্গত, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান যখন হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অবরোধ আরোপ করেছিল, তখন থেকেই তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়।

ইরান সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও বর্তমানে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কমে গেছে। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স ফার্ম ‘উইন্ডওয়ার্ড’- এর তথ্যমতে, যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন ১৩০টি জাহাজ যাতায়াত করত, সেখানে গত শনিবার মাত্র ১৭টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে।

গত মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৯ ডলারে পৌঁছালেও, গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তা ৯২ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল।

ট্রাম্পের নৌ অবরোধের ঘোষণার ফলে এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতেও ধস নেমেছে। সোমবার বাজার খোলার সাথে সাথেই সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক কমেছে ০.৯ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ১ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। মার্কিন শেয়ার বাজার খোলার আগেই এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স ০.৮ শতাংশ কমে লেনদেন হচ্ছে।