যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের ফলে ইরানের প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রুশ সংবাদমাধ্যম আরআইএ নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির।
মোহাজেরানি জানান, ক্ষয়ক্ষতির এই পরিমাণটি একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন এবং এটি আরো বাড়তে পারে। তিনি বলেন, “ক্ষয়ক্ষতি সাধারণত কয়েকটি স্তরে মূল্যায়ন করা হয়, তাই এই হিসাবটি চূড়ান্ত নয়।”
তিনি আরো জানান, বর্তমানে কূটনৈতিক চ্যানেলে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে ইরান।
মোহাজেরানি বলেন, “আমাদের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে এবং ইসলামাবাদ আলোচনায় যা আলোচিত হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি।”
এর আগে গত শুক্রবার ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রেসিডেন্ট পীর-হোসেন কলিভান্দ জানান, ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ আবাসিক বাড়িঘর ও ২৩ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক কেন্দ্র রয়েছে।
ইরানের লিগ্যাল মেডিকেল অর্গানাইজেশনের তথ্যমতে, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩ হাজার ৭৫৩ জন শহীদ হয়েছেন।
গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ভিত্তি হিসেবে ইরানের ১০-দফা প্রস্তাব মেনে নিলেও ১২ এপ্রিলের আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়। ইরানের অভিযোগ, ২০ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পরও মার্কিন পক্ষের ‘অতিরিক্ত দাবির’ কারণে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।