ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক ক্ষুধা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল সতর্ক করে বলেছেন, এরইমধ্যে তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তায় থাকা কোটি মানুষের সঙ্গে নতুন করে আরো অনেকে ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
ওয়াশিংটনে আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকের ফাঁকে এএফপি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। খবর আলজাজিরার।
গিল বলেন, “এখনই বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তায় ভুগছে। এই সংখ্যা খুব দ্রুত প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। কারণ যুদ্ধের প্রভাব ধীরে ধীরে বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়বে।” তিনি জানান, যেসব দেশ এরইমধ্যে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে বা যেখানে সরকার দুর্বল ও অস্থির—সেসব দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে এই দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে ক্ষুধা ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
গিল আরো বলেন, “বর্তমানে বাজারে যে খাদ্য রয়েছে, তা আগেই উৎপাদিত হয়েছে। তবে প্রকৃত প্রভাব কয়েক মাস পর থেকে স্পষ্টভাবে অনুভূত হতে পারে।”
এর আগে একই অনুষ্ঠান থেকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিভা বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমাধান না হলে এবং তেলের দাম বেশি থাকলে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সামনে কঠিন সময় আসছে।”
তিনি আরো বলেন, “ন্যায্যমূল্যে সারের সরবরাহ শিগগিরই পুনরায় শুরু না হলে আমরা মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন, যা খাদ্যপণ্যের দামেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।”