মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান হুমকির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ক্যারিবীয় এই দেশটির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অবৈধ আগ্রাসন চালায়, তাহলে তার দেশ নিজেদের রক্ষায় সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে লড়াই করবে। খবর প্রেস টিভির।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিয়াজ ক্যানেল বলেন, “কিউবা এমন কোনো দেশ নয় যারা যুদ্ধ চায় বা যুদ্ধকে উৎসাহিত করে। কিন্তু মাতৃভূমিকে রক্ষা করার প্রয়োজন পড়লে আমরা যুদ্ধ করতেও ভয় পাই না।”
কিউবার প্রেসিডেন্ট আরো জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর থেকে কিউবা সরকার জাতীয় নিরাপত্তাকে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ হিসেবে বিবেচনা করছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইরান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরান অভিযান শেষ করার পর তারা কিউবার দিকে নজর দিতে পারেন। মূলত এরপরই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।
প্রেস টিভির তথ্যমতে, গত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে কিউবা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়ে আসছে, যা জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র একটি অবৈধ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার পর, ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচক কিউবার বিরুদ্ধেও চাপ প্রয়োগের অভিযান আরো তীব্র করেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর তেল অবরোধ আরোপ করে এবং দেশটিতে ‘শাসন পরিবর্তনের’ ইঙ্গিত দেয়।
কিউবার প্রেসিডেন্ট দিয়াজ ক্যানেল জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন একতরফা নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবার মানুষ কষ্ট পেলেও তাদের অভিধানে ‘আত্মসমর্পণ’ বলে কোনো শব্দ নেই। কিউবা কোনোভাবেই মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।