আন্তর্জাতিক

ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা

ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান মার্কিন অবরোধ ও রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের পণ্যবাহী জাহাজ জব্দের ঘটনায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্য উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে নির্ধারিত আসন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। খবর আল-জাজিরার।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসার পরিকল্পনা এই মুহূর্তে তেহরানের নেই। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি ইরানি উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ‘আলোচনার পরবর্তী পর্বে অংশগ্রহণের কোনো পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত গৃহীত হয়নি’।

অন্যদিকে, প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা ফারস ও তাসনিম উল্লেখ করেছে, আলোচনার টেবিলে বসার প্রধান শর্তই হলো ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা। সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা ওয়াশিংটনের দাবিগুলোকে ‘অযৌক্তিক ও অবাস্তব’ বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

ইরানি সংবাদমাধ্যমে নেতিবাচক সুর শোনা গেলেও বৈঠকের আয়োজক দেশ পাকিস্তান এখনও আশাবাদী। আল জাজিরার ইসলামাবাদ প্রতিনিধি কামাল হায়দারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের জন্য নজিরবিহীন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী ইসলামাবাদজুড়ে প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো সিল করে দেওয়া হয়েছে।

রবিবার নূর খান বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশালকার সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমান অবতরণ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন প্রতিনিধিদের জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ি ও বিশেষ নিরাপত্তা দল ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে। মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের জন্য দুটি বড় হোটেল কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হয়েছে।

রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি জাহাজ ‘তুসকা’ জব্দের ঘটনাটি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুললেও, ইসলামাবাদ আশা করছে যে শেষ মুহূর্তে ইরানি প্রতিনিধি দল আলোচনায় যোগ দেবে।