আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা বর্জন করল ইরান

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রস্তাবিত আলোচনা বর্জন করেছে ইরান। খবর আল-জাজিরার। 

সোমবার (২০ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে জানান, পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির ক্রমাগত লঙ্ঘন ও নৌ অবরোধের কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাঘাইয়ের মতে, গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই তা ভঙ্গ করে আসছে। বিশেষ করে নৌ-অবরোধ আরোপ করার মাধ্যমে মার্কিনিরা সরাসরি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি ইতোমধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানকেও জানিয়েছে তেহরান।

লেবাননের কথা উল্লেখ করে এই কূটনীতিক জানান, যুদ্ধবিরতিতে লেবাননও যুক্ত থাকবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ওয়াশিংটন অস্বীকার করেছে। 

বাঘাই বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আসলে আলোচনার বিষয়ে মোটেও সিরিয়াস নয়। তারা শুধু দোষারোপের খেলা খেলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি নতুন করে কোনো হামলা চালায়, তাহলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত।”

গতকাল রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, তার প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য পাকিস্তানের পথে রয়েছে। সূত্রমতে, এই দলে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের থাকার কথা ছিল। এমনকি আলোচনা ফলপ্রসূ হলে পরবর্তী ধাপে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ইসলামাবাদে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ছিল।

তেহরান-ওয়াশিংটনের দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পাকিস্তান সরকার। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া ছাড়াও হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ইরানের এই কঠোর অবস্থানের পর আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানো যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী বুধবার (২৩ এপ্রিল) শেষ হচ্ছে।

ইরান বর্তমানে তাদের নিজেদের প্রস্তাবিত ১০ দফা প্রস্তাবের ওপর অটল রয়েছে, যা ইতোমধ্যেই ইসলামাবাদের মধ্যস্থতাকারীদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন বিশ্ববাসীর নজর ওয়াশিংটনের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার দিকে।