যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম জগতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয় পডকাস্টার টাকার কার্লসন ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী করতে তার ভূমিকার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জর্ডানের সংবাদমাধ্যম রোয়া নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার ‘দ্য টাকার কার্লসন শো’ অনুষ্ঠানে ফক্স নিউজের সাবেক এই উপস্থাপক গভীর ব্যক্তিগত অনুশোচনা প্রকাশ করে বলেন, ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউজের ফেরাতে তার ব্যাপক প্রচারণা এখন তাকে ‘মানসিকভাবে যন্ত্রণা’ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমাদের এখন নিজেদের বিবেকের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সময় এসেছে। আমি দীর্ঘ সময় ধরে এই যন্ত্রণায় ভুগব। আমি মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ক্ষমা চাইছি। যদিও আমার উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না, কিন্তু আমি যা করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত।”
কার্লসন আরো উল্লেখ করেন যে, তিনি এবং তার মতো আরো লাখ লাখ মানুষ যারা ট্রাম্পের জন্য কাজ করেছিলেন, তারা এখনকার পরিস্থিতির জন্য সরাসরি দায়ী।
রোয়া নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্লসনের এই ‘অনুশোচনার’ প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া ইরান বিরোধী সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। কার্লসন দীর্ঘকাল ধরে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার ও বিদেশি যুদ্ধ এড়িয়ে চলার নীতির কট্টর সমর্থক। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ট্রাম্প তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন।
সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানগুলোতে কার্লসন তার সমালোচনার ধার বাড়িয়েছেন। তিনি প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপগুলোকে ‘সব দিক থেকে জঘন্য’ বলে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, এই প্রশাসন আমেরিকার স্বার্থের বদলে বিদেশি স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে, টাকার কার্লসনের এই মন্তব্যের পর ট্রাম্প চুপ থাকেননি। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ তিনি কার্লসনকে “স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন” এবং ‘ভ্রান্ত মূর্খ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
২০২৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কার্লসন ট্রাম্পের প্রধান সমর্থকদের একজন ছিলেন। কিন্তু এখন তার এই প্রকাশ্য বিরোধ ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডানপন্থি মিডিয়া ও মার্কিন রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।