আন্তর্জাতিক

পাইলটদের ছবি তোলার কারণে দুই যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ

২০২১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি যুদ্ধবিমান মাঝ-আকাশে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে, এই সংঘর্ষের কারণ ছিল- বিমানের পাইলটরা ওই সময় ছবি তুলছিলেন ও ভিডিও ধারণ করছিলেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

সিউলের অডিট ও পরিদর্শন বোর্ডের মতে, ঘটনাটি ঘটেছিল যখন বিমান দুটি মধ্য কোরিয়ার দেগু শহরে একটি ফ্লাইট মিশনে ছিল। পাইলটরা অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান, কিন্তু সংঘর্ষে বিমান দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এগুলো মেরামতের জন্য সামরিক বাহিনীর ৮৮০ মিলিয়ন ওন (৫ লাখ ৯৬ হাজার মার্কিন ডলার) খরচ হয়।

পাইলটদের মধ্যে একজন পরবর্তীতে সামরিক বাহিনী ছেড়ে দেন। তাকে ৮৮ মিলিয়ন ওন (দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা) জরিমানা করা হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান সংঘর্ষের কারণ ছিল, ওই পাইলট তার সামরিক ইউনিটের সাথে শেষ ফ্লাইটটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন।

বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অডিট বোর্ড বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইটের ছবি তোলা ‘সেই সময়ে পাইলটদের মধ্যে একটি বহুল প্রচলিত অভ্যাস ছিল।’

প্রতিবেদন অনুসারে, পাইলট ফ্লাইটের আগে একটি ব্রিফিংয়ে এমনটি করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। মিশন চলাকালীন অগ্রগামী বিমানটিকে অনুসরণ করছিলেন তিনি। ঘাঁটিতে ফেরার পথে তিনি তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি তুলতে শুরু করেন। এই বিষয়টি লক্ষ্য করে, অগ্রগামী বিমানটির পাইলট তখন তার বিমানের অন্য একজন পাইলটকে উইংম্যান বিমানটির একটি ভিডিও ধারণ করতে বলেন।

এরপর উইংম্যান পাইলট হঠাৎ করে তার জেট বিমানটিকে আরও উঁচুতে উড়িয়ে দেন এবং উল্টে দেন, যাতে এটি ক্যামেরায় আরো ভালোভাবে ধারণ করা যায়। এই কৌশলের ফলে বিমান দুটি একে অপরের খুব কাছাকাছি চলে আসে। সংঘর্ষ এড়াতে, অগ্রগামী বিমানটি দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করে। কিন্তু অবশেষে দুটি এফ-১৫কে জেটের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর ফলে অগ্রগামী বিমানটির বাম ডানা এবং উইংম্যান বিমানটির লেজের স্ট্যাবিলাইজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।