আন্তর্জাতিক

ইরান উত্তেজনার মধ্যেই পদচ্যুত হলেন মার্কিন নৌবাহিনী সচিব

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধ ও চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন নৌবাহিনী সচিব জেন ফেলানকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় বুধবার (২২ এপ্রিল) মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) জানিয়েছে, এই আদেশ ‘অবিলম্বে কার্যকর হবে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। 

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল ফেলানের আকস্মিক বিদায়ের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, তাকে সরাসরি বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে নৌবাহিনীর আন্ডার সেক্রেটারি হাং কাও ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বিরোধের জেরেই নৌবাহিনী সচিবকে বিদায় নিতে হলো। 

নৌ বাহিনী সচিবকে তার পদ থেকে অপসারণের এই খবরটি এমন সময় এলো যার তিন সপ্তাহেরও কম সময় আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মার্কিন সেনাপ্রধান র‍্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেছিলেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর মাত্র এক মাসের মাথায় অভিজ্ঞ সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি পেন্টাগন ও মার্কিন রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গত রবিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, হেগসেথ একটি ‘সংক্ষিপ্ত ফোন কলের’ মাধ্যমে সেনাপ্রধান জর্জকে বরখাস্ত করেন। হেগসেথের সন্দেহ ছিল যে, চারজন কৃষ্ণাঙ্গ ও নারী কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে দেওয়ার খবরটি সেনাপ্রধান নিউইয়র্ক টাইমসের কাছে ফাঁস করেছেন।

জন ফেলান ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক মার্কিন নৌবাহিনীর সচিব হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার আগে তার কোনো সামরিক অভিজ্ঞতা ছিল না। তিনি একজন বড় শিল্প সংগ্রাহক, রিপাবলিকান দাতা এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত বছর ট্রাম্প তাকে মনোনীত করেন এবং সিনেটে ৬২-৩০ ভোটে তিনি নিশ্চিত হন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনার কারণেই নৌবাহিনী সচিব ফেলানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফেলানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সরাসরি যোগাযোগ হেগসেথ ও উপ-প্রতিরক্ষা সচিব স্টিভ ফেইনবার্গের বিরক্তির কারণ ছিল। বিশেষ করে ফেলান যখন হেগসেথকে এড়িয়ে সরাসরি ট্রাম্পের কাছে একটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজের প্রস্তাব দেন, তখন পেন্টাগন প্রধানরা ক্ষুব্ধ হন। এর পর থেকেই তারা ফেলানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছিলেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে হেগসেথ এখন পর্যন্ত ৩৩ জনেরও বেশি সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন, যার মধ্যে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল সি কিউ ব্রাউন জুনিয়র এবং নৌ-অপারেশন প্রধান অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রানচেত্তিও রয়েছেন। স্থানীয় সংবাদ অনুযায়ী, ফেলান হলেন হেগসেথের হাতে বরখাস্ত হওয়া ৩৪তম সামরিক কর্মকর্তা।