ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সামরিক বাহিনীকে লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ‘জোড়ালো হামলার’ নির্দেশ দিয়েছেন। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তিন সপ্তাহ বাড়ানোর মাত্র দুই দিন পর তিনি এই আদেশ দিলেন। খবর বিবিসির।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার পর এই নতুন নির্দেশনা ও হামলা শুরু হয়। দুই পক্ষের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে চরম উত্তেজনার মুখে ফেলেছে এবং এই চুক্তির নড়বড়ে অবস্থাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।
গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনার পর এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। তবে এই চুক্তির ফলে হামলা পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে কেবল এর তীব্রতা কিছুটা কমেছিল।
নেতানিয়াহুর নতুন নির্দেশের পর, লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ বিনত জবেইল, টায়ার এবং নাবাতিহ জেলার বিভিন্ন শহরে একের পর এক ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর দিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহর ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ ধ্বংস করতে এই অভিযান চালিয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্যমতে, নাবাতিহ জেলার ইউহমোর আল-শাকিফ শহরে একটি ট্রাক ও মোটরসাইকেলে ইসরায়েলি হামলায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। বিনত জবেইল জেলার সাফাদ আল-বাত্তিখ শহরে আরেকটি হামলায় ২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা অস্ত্রবোঝাই একটি গাড়ি থেকে হিজবুল্লাহর তিন সদস্য এবং মোটরসাইকেল আরোহী আরো একজনকে ‘নির্মূল; করেছে। এছাড়া লিতানি এলাকায় আরো দুই সশস্ত্র সদস্যকে হত্যার দাবি করেছে তারা। আইডিএফ-এর মতে, ওই এলাকায় থাকা ইসরায়েলি সেনাদের জন্য তারা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
পাল্টা জবাবে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইউহমোর আল-শাকিফে হামলার প্রতিশোধ নিতে তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি ইসরায়েলি সামরিক যান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
বর্তমানে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের একটি বিশাল অংশ দখল করে রেখেছে এবং সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতির ফলে ওই অঞ্চলে নতুন করে পুরোদমে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।