আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ দফায় রাজ্যের সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে। নদিয়া জেলার (১৭), উত্তর ২৪ পরগনা (৩৩), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩১), কলকাতা (১১), হাওড়া (১৬), হুগলি (১৮), পূর্ব বর্ধমান (১৬) আসনে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ, শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টায়। ইতিমধ্যেই প্রত্যেকটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের লাইন লক্ষ্য করা গেছে। 

দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের মোট বুথের সংখ্যা ৪১ হাজার একটি। এর মধ্যে প্রধান বুথ ৩৯ হাজার ৩০১টি। সহায়ক বুথ প্রায় ১ হাজার ৭০০। শেষ দফায় প্রার্থী সংখ্যার ১ হাজার ৪৪৮ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ২২০ জন। মোট ভোটার ৩ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৩৭ জন।

নির্বাচনি লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট জোট, আইএসএফ, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির মতো দলগুলো। যদিও বেশিরভাগ আসনেই মূল লড়াই হবে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। 

উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী (ভবানীপুর), মন্ত্রী ও কলকাতার মেয়র ও ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর), মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (টালিগঞ্জ), মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (চন্দননগর), অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী (সোনারপুর দক্ষিণ), রুদ্রনীল ঘোষ (শ্যামপুর), হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী (টালিগঞ্জ), কলতান দাশগুপ্ত (পানিহাটি), মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (উত্তরপাড়া) , দিপ্সিতা ধর (দমদম উত্তর) সহ একাধিক বিধায়ক ও সমাজের বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এই দফায় ভাগ্য নির্ধারণ হবে ভাঙ্গড় বিধানসভা আসনের আইএসএফ প্রার্থী পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকীর।

নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে মোট ২৩৪৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তর চব্বিশ পরগনায় থাকছে ৫০৭ কোম্পানি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৪০৯ কোম্পানি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন থাকছে ৩৮ হাজার ২৯৭ রাজ্য পুলিশও। নিউটাউনে রয়েছে স্পেশাল কন্ট্রোল রুম। এছাড়াও সতর্কতামূলকভাবে ৪৮ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন দাগি অপরাধীকে।

নির্বাচনের কারণে সিল করে দেয়া হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। 

দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গের যে ১৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে, ২০২১ সালের নির্বাচনে এই ১৪২টি আসনের মধ্যে ১২৩ আসনে জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি জয় পেয়েছিল ১৮ আসনে। ১টি মাত্র আসনে জয় পেয়েছিল আইএসএফ। নির্বাচন পূর্ববর্তী জরিপ বলছে, চলমান বিধানসভা নির্বাচনেও এগিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। 

এর আগে রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনে গত ২৩ এপ্রিল রেকর্ড ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা। ওইদিন আসাম, কেরালা, তামিললাড়ু এবং পুদুচেরি- ভারতের এই চার রাজ্যের ভোটের ফলাফলও ঘোষিত হবে।