আন্তর্জাতিক

মার্কিন পাসপোর্টে এবার ট্রাম্পের ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সম্বলিত নতুন পাসপোর্টের নকশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তারা পাসপোর্টের একটি নতুন নকশা উন্মোচন করেছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি রয়েছে। খবর আল-জাজিরার।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তরা জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছবি সম্বলিত বিশেষ এই স্মারক পাসপোর্ট ইস্যু করা হচ্ছে।

তবে সমালোচকরা এটিকে জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং ছড়িয়ে দেওয়ার নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজ ও পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, পাসপোর্টের ভেতরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি যুক্ত করা হয়েছে, যার পটভূমিতে রয়েছে মার্কিন পতাকা এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের কিছু অংশ। নকশাটিতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর সোনালী রঙে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া পাসপোর্টের অন্য একটি পাতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা জনকদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করার একটি ছবিও স্থান পেয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, “যেহেতু আগামী জুলাইয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ২৫০তম বার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছে, তাই পররাষ্ট্র দপ্তর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সীমিত সংখ্যক বিশেষ নকশাকৃত পাসপোর্ট প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

এই স্মারক পাসপোর্টগুলো ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সির মাধ্যমে আবেদনকারী মার্কিন নাগরিকদের দেওয়া হবে। চলতি গ্রীষ্মে এর বিতরণ শুরু হবে এবং স্টক থাকা পর্যন্ত তা চলবে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে প্রচলিত মার্কিন পাসপোর্টগুলোতে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত ছবি থাকে। যেমন- ভেতরের প্রচ্ছদে ফোর্ট ম্যাকহেনরি যুদ্ধের পর ফ্রান্সিস স্কট কির একটি চিত্র রয়েছে, যা তাকে জাতীয় সংগীত লিখতে অনুপ্রাণিত করেছিল। অন্যান্য পাতায় অ্যাপোলো ১১-এর চাঁদে অবতরণ এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো প্রতীকগুলো দেখা যায়।

ট্রাম্প গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রতীকে নিজের নাম ও ছবি যুক্ত করার প্রচেষ্টা শুরু করেছেন। পাসপোর্টের নতুন নকশাটি ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রচেষ্টারই সর্বশেষ একটি উদাহরণ। 

ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের বেশ কিছু পদক্ষেপ ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যানের টিকিটে প্রথাগত প্রাকৃতিক দৃশ্যের পরিবর্তে জর্জ ওয়াশিংটনের পাশাপাশি ট্রাম্পের ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। 

২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে মার্কিন টাকশাল ১ ডলারের একটি বিশেষ মুদ্রার নকশা প্রকাশ করেছে, যেখানে ট্রাম্পের প্রতিকৃতির পাশাপাশি তার বিখ্যাত স্লোগান ‘ফাইট ফাইট ফাইট’ খোদাই করা থাকবে।

ট্রাম্প নিউইয়র্কের পেন স্টেশনকে নিজের নামে করার জন্য ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমারকে চাপ দিয়েছেন, কিন্তু এই প্রচেষ্টাটি এখনো সফল হয়নি।

ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন সরকারি ভবনে লম্বা ব্যানারের আকারে তার মুখচ্ছবি স্থাপন করেছেন।

এমনকি ট্রাম্প গত অক্টোবরে একটি বিশাল বলরুম নির্মাণের জন্য হোয়াইট হাউজের ইস্ট উইং ভেঙে ফেলেন এবং ফ্রান্সের প্যারিসের মতো রাজধানীতে একটি বিজয় তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনাও তার রয়েছে।

গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘দ্য ডোনাল্ড জে ট্রাম্প অ্যান্ড দ্য জন এফ কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো দায়িত্বরত প্রেসিডেন্টের নামে জাতীয় প্রতিষ্ঠানের নামকরণের ঘটনা এটিই প্রথম।

আগামী জুলাই মাসে স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে আরও নানা বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে হোয়াইট হাউসের। তবে পাসপোর্টে ট্রাম্পের ছবি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের এসব ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।