ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ’ প্রয়োগের কৌশলের অংশ হিসেবে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ইরানি ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ জব্দ করেছে মার্কিন অর্থ বিভাগ। ফক্স বিজনেসের ‘কাডলো’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই তথ্য জানিয়েছেন। খবর আল-জাজিরার।
স্কট বেসেন্ট জানান, ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ নামক একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তেহরানের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইরানের সম্পদ জব্দ করা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা এবং ইরানের সঙ্গে ব্যবসা না করতে বিদেশি দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, “আমরা সব জায়গায় তাদের (ইরানের) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করছি। তার চেয়েও বড় কথা, আমরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করছি যাতে অন্য দেশ বা সংস্থাগুলো ইরানের সঙ্গে লেনদেন করতে ভয় পায়।”
তিনি আরো যোগ করেন, “আমরা প্রতিদিন দেখতে পাচ্ছি যে এই সরকারের (ইরানের) ওপর চাপ বাড়ছে। ইরানের বাইরে তাদের যেসব অবসরকালীন তহবিল ছিল, আমরা সেগুলো ফ্রিজ করছি। এই অর্থ আমরা ইরানি জনগণের জন্য জমা রাখছি। একইভাবে দক্ষিণ ফ্রান্সসহ সারা বিশ্বে তাদের যত বিলাসবহুল ভিলা আছে, আমরা সেগুলো খুঁজে বের করছি এবং জব্দ করছি।”
বেসেন্ট জানান, অর্থ বিভাগ এ পর্যন্ত ইরানের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করেছে। তিনি দাবি করেন, এই জব্দ প্রক্রিয়া ইরানি জনগণের স্বার্থেই করা হচ্ছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রীর মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের ফলে ইরান বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। গত ডিসেম্বর দেশটির বৃহত্তম ব্যাংকের পতন ঘটার পর থেকে পরিস্থিতি আরো শোচনীয় হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, “দেশটিতে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি তৈরি হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাদের মুদ্রার মান প্রায় ৬০ থকে ৭০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে তারা এখন একটি বড় ধরনের মুদ্রা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।”
বেসেন্ট জানান, সম্প্রতি অর্থ বিভাগকে ইরানের ওপর চাপ আরো বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের তেল আমদানিকারক দেশগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
তিনি ফক্স বিজনেসকে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তিন সপ্তাহ আগে আমাকে চাপ আরো বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা ইরানি তেল ক্রেতাদের জানিয়ে দিয়েছি যে- আপনারা যদি ইরানি তেল আপনাদের সিস্টেমে গ্রহণ করেন, তাহলে আপনাদের শিল্প এবং ব্যাংকগুলোর ওপর আমরা ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ আরোপ করতে প্রস্তুত।”
বেসেন্ট যুক্তি দেন যে, ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ তেহরানের অর্থনীতিতে স্থায়ী ক্ষতি সাধন করবে।
তিনি বলেন, “খারগ আইল্যান্ড বন্দরের তেল লোডিং কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। আমরা মনে করি ইরানের তেলের মজুদ শিগগিরই পূর্ণ হয়ে যাবে। তখন তাদের তেলের কূপগুলো বন্ধ করে দিতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সৃষ্টি করবে।”
মার্কিন অথমন্ত্রীর মতে, “এই চাপের কারণে ইরান তাদের সৈন্যদের বেতন দিতে পারবে না। সমান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা হিজবুল্লাহ বা হামাসের মতো তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে বিশ্বজুড়ে আর অর্থায়ন করতে পারবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বিশ্বজুড়ে ইরানের সন্ত্রাসী শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতা বন্ধ করা।”
বেসেন্ট স্পষ্ট করে জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত মার্কিন-ইরান আলোচনা স্থবির থাকবে, ততক্ষণ অর্থ তেহরানের ওপর মার্কিন বিভাগের এই অর্থনৈতিক চাপ ও হরমুজ প্রণালির অবরোধ অব্যাহত থাকবে।