ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি ও অবরোধ ইরানের প্রকৃত শক্তি মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ওয়াশিংটন মনে করছে অবরোধের মুখে ইরান দ্রুত নতি স্বীকার করবে, কিন্তু এই ধারণাটি ‘ইরানের চিন্তাধারা সম্পর্কে একটি মৌলিক ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে’ তৈরি।
অধ্যাপক এলমাসরির মতে, ইরান বর্তমানে নিজেকে সুবিধাজনক অবস্থানে দেখছে এবং তারা একটি দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।
তিনি যুক্তি দেন যে, ওয়াশিংটনের এই বিশ্বাস- অর্থাৎ অবরোধের কারণে ইরান তেলের মজুত সংকটে পড়বে- এটি ‘খুবই অতিরঞ্জিত’।
এলমাসরি বলেন, “এটি অনেক বেশি সম্ভাব্য যে ইরান নতুন ও সৃজনশীল উপায়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে এবং তারা সম্ভবত অন্তত দুই থেকে তিন মাস বা তার বেশি সময় টিকে থাকতে পারবে।” তিনি একটি সাম্প্রতিক ইরানি প্রতিবেদনের দিকে ইঙ্গিত করেন, যেখানে স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে যে, মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৫২টি জাহাজ মার্কিন অবরোধ এড়াতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, “এখন প্রশ্ন এটি নয় যে ইরান টিকে থাকতে পারবে কি না; প্রশ্ন হলো যুক্তরাষ্ট্র কী পরিমাণ ক্ষতি সইতে প্রস্তুত? কারণ আরো দুই বা তিন মাস এভাবে চললে তা মার্কিন এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হবে।”
এলমাসরি যোগ করেন যে, ইরান মারাত্মক অর্থনৈতিক কষ্ট সহ্য করতেও প্রস্তুত, কারণ তারা এই যুদ্ধকে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে।
তার ভাষায়, “ইরানিরা অর্থনৈতিক মূল্য দিতে ইচ্ছুক কারণ এটি তাদের টিকে থাকার লড়াই। তারা যদি আজ বা কাল ট্রাম্পের শর্তে রাজি হয়, তাহলে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে এর অর্থ হতে পারে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অবসান।”