বিস্ফোরক বোঝাই কোয়াডকপ্টারটি দক্ষিণ লেবাননের ছাদগুলোর উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। বোমায় বিধ্বস্ত ভবনগুলোর মাঝখান দিয়ে এবং কাঁচা রাস্তা ধরে নিখুঁতভাবে এটি চলছিল। ড্রোনটি তার চালককে লক্ষ্যবস্তুর একটি স্পষ্ট ফার্স্ট-পার্সন ছবি দিচ্ছিল: কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা সেনাসহ একটি ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক।
ছবিটির উপরে সাদা অক্ষরে দুটি শব্দ লেখা ছিল-“বোমা প্রস্তুত”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোয়াডকপ্টারটি একটি ফাইবার অপটিক ড্রোন, যা হিজবুল্লাহ মারাত্মক নির্ভুলতার সাথে ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যবহার করছে। এই ড্রোনগুলোকে থামানো কঠিন এবং শনাক্ত করা আরো কঠিন, যা এর চালকদের লক্ষ্যবস্তুর একটি উচ্চ রেজোলিউশনের দৃশ্য দেয়।
ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের একজন সিনিয়র গবেষক ইয়োশুয়া কালিস্কি লিখেছেন, ড্রোনগুলো ‘যোগাযোগ জ্যামার থেকে সুরক্ষিত এবং কোনো ইলেকট্রনিক সিগনেচার না থাকায়, এগুলো কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে তা খুঁজে বের করাও অসম্ভব।’
রবিবার হিজবুল্লাহর একটি সুনিপুণভাবে নির্মিত ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র কয়েক কিলোগ্রাম ওজনের কোয়াডকপ্টার ড্রোনটি তার লক্ষ্যে আঘাত হানে এবং ইসরায়েলি সেনারা এর আগমন সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত ছিল।
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) তথ্য অনুসারে, এই হামলায় ১৯ বছর বয়সী সার্জেন্ট ইদান ফুকস নিহত এবং আরো বেশ কয়েকজন আহত হন। এরপর আহত সেনাদের সরিয়ে নিতে ঘটনাস্থলে আসা একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের দিকে হিজবুল্লাহ আরো ড্রোন নিক্ষেপ করে।
ফাইবার অপটিক ড্রোনগুলো তাদের সরলতার কারণেই কার্যকর: দূর থেকে ড্রোন নিয়ন্ত্রণকারী ওয়্যারলেস সিগন্যালের পরিবর্তে, ফাইবার অপটিক কেবল ড্রোনটিকে সরাসরি তার চালকের সাথে সংযুক্ত করে।
সিএনএনকে একটি ইসরায়েলি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ফাইবার অপটিক ক্যাবলগুলো এতটাই পাতলা এবং হালকা যে খালি চোখে তা প্রায় অদৃশ্য। তাই এই ক্যাবল ১৫ কিলোমিটার বা তারও বেশি দূরত্ব পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে।