আন্তর্জাতিক

হরমুজে প্রবেশের চেষ্টা: মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ দাবি করেছে, জাস্ক দ্বীপের কাছে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। খবর আল-জাজিরার।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) থামার নির্দেশ অমান্য করায় সেটির ওপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। 

এই ঘটনার সূত্রপাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। আজ সোমবার থেকে তিনি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো, হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সামরিক পাহারায় নিরাপদে বের করে আনা।

মার্কিন সেন্টাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই প্রজেক্ট সফল করতে তারা বিশাল সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছে। এই অভিযানের জন্য ১৫ হাজার অতিরিক্ত সৈন্য, গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ডেস্ট্রয়ার এবং ১০০-এর বেশি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন এই পদক্ষেপকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি সতর্ক করে বলেছেন, “হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পুরোপুরি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। আমাদের সঙ্গে সমন্বয় না করে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা ট্যাঙ্কার এই জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তাদের নিরাপত্তা বিপন্ন হবে।”

এরপরই হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টাকারী মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এই ঘটনা ঘটলো। 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই রুটটি এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে।