আন্তর্জাতিক

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হামাস নেতার ছেলে গুরুতর আহত, নিহত ৫

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় হামাসের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়ার ছেলে আজম আল-হাইয়া গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (৬ মে) গাজাজুড়ে চালানো এই হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। খবর রয়টার্সের। 

হামাস সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, হামাসের নির্বাসিত গাজা প্রধান খলিল আল-হাইয়া কায়রোতে কায়রোতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভবিষ্যত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার নেতৃত্বে রয়েছেন। বুধবার তার ছেলে আজম আল-হাইয়াকে গাজা সিটিতে লক্ষ্যবস্তু করে ইসরায়েল। ওই হামলায় আরো একজন নিহত হয়েছেন। 

হাইয়া এর আগেও ইসরায়েলি হামলায় তার তিন ছেলেকে হারিয়েছেন। ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের যুদ্ধে গাজায় তার দুই ছেলে নিহত হন, আর তৃতীয় ছেলেটি গত বছর দোহায় হামাস নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো এক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।

হাইয়ার সহযোগী ও হামাস কর্মকর্তা তাহের আল-নুনো এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, “আজম খলিল আল-হাইয়াকে লক্ষ্য করে এই হামলা নৈতিক অবক্ষয়ের চরম অবনতি।” তিনি আরো যোগ করেন, “হামলা ও হত্যাকাণ্ড আলোচককে তার অবস্থানে আরো অটল করবে এবং জনগণের অধিকার ও ইচ্ছাশক্তি রক্ষায় আরো দৃঢ় করবে।”

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

গাজার চিকিৎসাকর্মীরা রয়টার্সকে জানান, এর একদিন আগেই দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ড্রোন। এতে গাজার মাদকবিরোধী পুলিশ বাহিনীর প্রধান কর্নেল নাসিম আল-কালাজানি নিহত হন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১৭ জন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আল-মাওয়াসি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা এক হামাস সদস্যকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে।

এই সহিংসতা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন কায়রোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গাজা শান্তি পরিকল্পনা’র দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা চলছে। এই পরিকল্পনার মূল শর্ত হলো গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও হামাসের নিরস্ত্রীকরণ। তবে হামাস জানিয়েছে, প্রথম ধাপের শর্তগুলো ইসরায়েল পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত তারা পরবর্তী ধাপে যাবে না।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৮৩৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।