আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ থেকে বাঁচতে ইসরায়েল ছাড়ার ও তেহরানের অধিকার মানার পরামর্শ ইরানের

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবশ্যই ইরানি জাতির অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে বলে জানিয়েছে ইরান। বুধবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিগ্রেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই নিক এই মন্তব্য করেন। 

আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি। 

সংবাদ সম্মেলনে ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল তালাই নিক বলেন, “মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুকে অবশ্যই ইরানি জাতির অধিকার মেনে নিতে হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এই ‘অশুভ’ জায়নবাদী (ইসরায়েলি) শাসনগোষ্ঠীর সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। এটিই হতে পারে যুদ্ধের অবসানের একমাত্র পথ।”

তিনি মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি জাতির অধিকার মেনে নিতে অস্বীকার করে এবং ‘অশুভ ও অপরাধী’ ইসরায়েলি শাসনগোষ্ঠী থেকে দূরত্ব বজায় না রাখে, তাহলে তারা যে সংকটের ‘জলাবদ্ধতায়’ আটকে আছে তা থেকে বের হতে পারবে না। তিনি আরো যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা মেনে নেওয়া।

বক্তব্যে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র আরো  উল্লেখ করেন, ইরানের সাধারণ জনগণই দেশটির প্রতিরক্ষা শক্তির ‘কৌশলগত গভীরতা’।

প্রেস টিভির প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর অতর্কিত হামলা শুরু করে। এই আগ্রাসনের শুরুতেই তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করে এবং দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা, হাসপাতাল ও স্কুলসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালায়।

এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ শুরু করে। এই অভিযানের অধীনে ইরান ১০০ দফায় পাল্টা হামলা চালায়। এসব হামলায় শত শত ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলি ভূখণ্ড ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যাপক আঘাত আনা হয়। 

যুদ্ধের এক পর্যায়ে ইরান বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ শত্রু দেশগুলোর জন্য বন্ধ করে দেয়। ওয়াশিংটন ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করলে তেহরান এই জলপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, যা বিশ্ব বাজারে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে।

ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই অবরোধ তুলে নেওয়া না হচ্ছে, ততক্ষণ তারা আলোচনার টেবিলে ফিরবে না। তেহরান জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ওয়াশিংটনের সর্বশেষ প্রস্তাবটি তারা এখনও পর্যালোচনা করছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “প্রকৃত আলোচনার জন্য প্রয়োজন সদিচ্ছা। কোনো প্রকার চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত বা চাঁদাবাজির মাধ্যমে শান্তি আসবে না।”