আন্তর্জাতিক

তামিলনাড়ুতে বিজয়ের শপথ পিছিয়ে গেল

৫ মে মেয়াদ ফুরিয়েছে তামিলনাড়ুর বিদায়ী বিধানসভার। তার পরের দিনই, বুধবার লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গড়ার দাবি জানিয়েছিল থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজগাম বা টিভিকে। কিন্তু টিভিকে-কে ফিরিয়ে দেন রাজ্যপাল। 

১১২ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে রাজ্যপাল সঙ্গে দেখা করেন বিজয়। কিন্তু রাজ্যপাল তাকে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে, ৭ মে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া সম্ভব হয়নি।  

এরপর বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যপালের সঙ্গে আবারো দেখা করেন বিজয়। সূত্রের খবর, রাজ্যপাল প্রশ্ন তুলেছেন মাত্র ১১৩ জন বিধায়ক নিয়ে কীভাবে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন সম্ভব? 

নির্বাচনে বিজয়ের দল ১০৮টি আসন পেয়েছে। কংগ্রেসের সমর্থনে এই সংখ্যা বর্তমানে ১১৩-এ পৌঁছেছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে মাত্র ৫টি কম। বিজয়ের দাবি, বাম দল এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দলের সমর্থন নিয়ে তিনি বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন।

রাজ্যপাল আরলেকর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শপথ গ্রহণের আগেই বিজয়কে প্রয়োজনীয় বিধায়কদের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।

সাংবিধানিক সংকটের এমন জটিল পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের কঠোর অবস্থান ঘিরে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘জনমতের অবমাননা’ বলে অভিহিত করে রাজ্যের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো।

বর্তমানে বিজয় বামপন্থী দল এবং পিএমকে-র (পিএমকে) সমর্থন পাওয়ার আশায় রয়েছেন। তবে বামপন্থী দলগুলো ডিএমপির নেতৃত্বাধীন জোটে থাকার কথাই জানিয়েছেন। অন্যদিকে পিএমকে সমর্থন দেয়ার ব্যাপারে প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি। 

যদিও অভিনেতা-রাজনীতিবিদ কমল হাসান এরপরেই সরব হন। তিনি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “বিজয়কে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ না জানানো তামিলনাড়ুর মানুষের রায়ের অবমাননা। ২৩৩ জন নির্বাচিত সদস্য এখনও শপথ নিতে পারছেন না, এটি গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।”

বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিনও বিজয়ের দাবির প্রতি পরোক্ষ সমর্থন জানিয়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন রাজভবনে নয়, বিজয়কে বিধানসভার ফ্লোরে শক্তি পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া উচিত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সর্বশেষ জানা যায়, তীব্র সমালোচনা মুখে বিজয়ের উপস্থাপিত নথিপত্র এবং বিধায়কদের সমর্থনের তালিকায় সন্তুষ্ট হয়ে রাজ্যপাল আরলেকার তাকে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠনের অনুমতি দিয়েছেন। 

আগামী শুক্রবার বা শনিবারের মধ্যেই শপথ নিতে পারেন বিজয় ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা। চেন্নাইয়ের এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এই শপথ গ্রহণ পর্ব আয়োজিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে টিভিকে-র শীর্ষ নেতৃত্ব ছাড়াও বিভিন্ন মিত্র দলের প্রতিনিধি এবং জাতীয় স্তরের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিজয়ের এই উত্থান তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।