আন্তর্জাতিক

আজই ইরানের জবাব পেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও

যুদ্ধ বন্দের প্রস্তাবে ইরান আজ শুক্রবারের মধ্যেই তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। খবর আল-জাজিরার। 

পোপের সঙ্গে দেখা করতে ইতালি সফরে থাকা রুবিও শুক্রবার রোমে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আজ কিছু একটা জানতে পারব... আমরা তাদের কাছ থেকে একটি জবাবের প্রত্যাশা করছি।”

তিনি আরো যোগ করেন, “দেখা যাক তাদের সেই জবাবে কী থাকে। আমাদের আশা, এটি এমন কিছু হবে যা আমাদের একটি ফলপ্রসূ আলোচনার প্রক্রিয়ার দিকে নিয়ে যেতে পারবে।”

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো সর্বশেষ প্রস্তাবটি তেহরান পর্যালোচনা করছে। তবে একজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয় যে, তারা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছিল যে, দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে আসলেই কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হরমুজ প্রণালিতে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আগে হামলার অভিযোগ তুলে গুলি চালিয়েছে। তবে এ ঘটনার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল আছে। সর্বশেষ হামলার ঘটনাটিকে তিন ‘সামান্য আঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, ইরান একটি চুক্তি করতে ‘খুবই আগ্রহী’।

শুক্রবার মার্কো রুবিও বলেন, “গতরাতে আমরা একটি প্রতিবেদন পেয়েছি যে, ইরান ওই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো সংস্থা গঠন করেছে বা করার চেষ্টা করছে। এটি একটি বড় সমস্যা এবং এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথে তেহরান ও ওয়াশিংটনের পাল্টাপাল্টি অবরোধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইএএ) এই পরিস্থিতিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকি’ বলে আখ্যায়িত করেছে।