ইরানের যুদ্ধ বন্ধের সর্বশেষ প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে মার্কিন প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠায় ইরান। তবে রবিবার রাতে তেহরানের এই জবাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প।
সোমবার (১১ মে) আল-জাজিরার ওয়াশিংটন ডিসি সংবাদদাতা রোজল্যান্ড জর্ডানের এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ইরানিরা তাদের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধের অবসান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দেওয়া নিষেধাজ্ঞার সমাপ্তি চায়। একই সঙ্গে তারা তাদের পরমাণু আকাঙ্ক্ষা এবং পররাষ্ট্রনীতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়- যে বিষয়গুলোকে ওয়াশিংটন এই যুদ্ধ শুরুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
ট্রাম্প নির্দিষ্ট করে বলেননি যে কেন তিনি এই চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে মনে হচ্ছে, ইরানিরা যে বিষয়গুলো উত্থাপন করেছে তার প্রতিটিই এমন এক একটি পয়েন্ট যেখানে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ছাড় দিতে রাজি নয়।
বিশেষ করে, ইরান বিশ্বের ১২তম বা ১৩তম পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা রাখে এবং তাদের প্রতিবেশীদের ওপর- বিশেষ করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে- আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর যে সক্ষমতা রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তা কোনোভাবেই সহ্য করবে না বলে দীর্ঘদিন থেকেই বলে আসছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র চায় হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করতে এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে।
ট্রাম্পের এই প্রত্যাখ্যান সেই লক্ষ্যগুলো অর্জন করবে, নাকি যুদ্ধ শেষ করার আলোচনায় ভিন্ন কোনো মোড় নেবে, তা এখনো দেখার বিষয়।