আন্তর্জাতিক

২০২৫ সালে অভ্যন্তরীণ স্থানচ্যুতি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাবে

২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সংঘাত বা সহিংসতার কারণে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা প্রথমবারের মতো দুর্যোগজনিত অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান  এ তথ্য জানিয়েছে।

অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইডিএমসি) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সংঘাতজনিত অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২৩ কোটি। এই সংখ্যাটি আগের বছর রেকর্ড করা সংখ্যার চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি এবং ২০০৮ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত বাস্তুচ্যুতির সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালে ২ দশমিক ৯৯ কোটিতে পৌঁছেছিল।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মহাসচিব জ্যান এগেল্যান্ড এই পরিসংখ্যানকে বেসামরিক নাগরিকদের মৌলিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি ‘বৈশ্বিক পতনের লক্ষণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, “অগণিত পরিবার ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘর এবং বিলুপ্তপ্রায় পরিষেবাগুলোতে ফিরছে অথবা একেবারেই ফিরতে পারছে না। ডিআর কঙ্গো ও সুদান থেকে শুরু করে ইরান ও লেবানন পর্যন্ত, আমরা আগের রেকর্ড সংখ্যক গৃহহীন মানুষের পাশাপাশি আরো লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত হতে দেখছি।”

অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি বলতে বোঝায় এমন প্রতিটি নতুন ঘটনা, যেখানে কোনো ব্যক্তি তার নিজের দেশের সীমানার মধ্যেই পালাতে বাধ্য হয়। একই ব্যক্তি একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হতে পারে।

আইডিএমসি-এর অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, ২০২৫ সাল বা তার আগে বাস্তুচ্যুত হওয়া কিন্তু এখনো বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি।

২০২৫ সালে মোট ৮ কোটি ২২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল, যা ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ ৮ কোটি ৩৫ লাখের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা এবং ২০ বছর আগে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যায় এটিই প্রথম হ্রাস। ২০২৫ সালে মোট অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ২২ লাখ মানুষ।

বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা হ্রাসের কারণ হলো সুদান, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো এবং সিরিয়ার কিছু অংশে মানুষের প্রত্যাবর্তন এবং তথ্যের অপ্রাপ্যতা। তবে, প্রতিবেদনে এই সংখ্যা হ্রাসকে ‘অগ্রগতি বলে ভুল করা উচিত নয়’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ এই সংখ্যার আড়ালে রয়েছে ‘লাখ লাখ মানুষের জোরপূর্বক প্রত্যাবর্তন, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো এবং গভীরতর সামাজিক ও পরিবেশগত চাপ’, যা মানুষের জন্য স্থায়ী সমাধানকে অবাস্তব করে তোলে।

২০২৫ সালে বাস্তুচ্যুত মানুষদের ৮৩ শতাংশেরও বেশি সংঘাত ও সহিংসতার কারণে নিজ দেশে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং বাকিরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশ ছেড়েছিলেন।