আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সরবরাহ বিঘ্নের ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে তেলের দাম বৃদ্ধির হুমকি সৃষ্টি করছে।
বুধবার (১৩ মে) প্রকাশিত তাদের মাসিক তেল বাজার প্রতিবেদনে আইইএ বলেছে, “আমদানিকারক দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহে নজিরবিহীন বিঘ্নের সম্মুখীন হওয়ায় বিশ্ব রেকর্ড গতিতে তেলের মজুত কমিয়ে আনছে।...অব্যাহত বিঘ্নের মধ্যে দ্রুত হ্রাস পাওয়া মজুদ ভবিষ্যতে মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিতে পারে।”
আইইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ও এপ্রিলের মধ্যে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুদ ২৪৬ মিলিয়ন ব্যারেল কমে ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে। এপ্রিলে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত থেকে দৈনিক যে পরিমাণ তেল কমেছে, তা কানাডা এবং যুক্তরাজ্যের সম্মিলিত দৈনিক ব্যবহারের প্রায় সমান।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হ্রাস এখন ১ বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি। এটি বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। কারণ ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং কম সরবরাহের প্রতিক্রিয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারগুলো তাদের ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে।
আইইএ বলেছে, ‘সবচেয়ে বড় ক্ষতি’ হচ্ছে পেট্রোকেমিক্যাল খাতে, যেখানে প্লাস্টিক, সার এবং ওষুধের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য তৈরির জন্য তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কমে গেছে।
সংস্থাটি আরো বলেছে, “সারা বিশ্বে উড্ডয়নরত ফ্লাইটের সংখ্যাও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম, যা জেট ফুয়েলের দামের ওপর কিছুটা চাপ কমাতে সাহায্য করছে। মধ্যপ্রাচ্যের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই দাম প্রায় তিনগুণ বেড়ে গিয়েছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দামের উল্লম্ফনের কারণে চাহিদার এই ক্রমবর্ধমান পতন ঘটছে।”
আইইএ এখন এই বছর বিশ্বে দৈনিক ১০৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের চাহিদা দেখছে, যা তাদের যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পূর্বাভাসের চেয়ে দৈনিক ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেল কম।