নির্বাচনের আগে কথা দিয়েছিলেন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জিরো টলারেন্স প্রীতি গ্রহণ করবে তার সরকার। যেমন বলা তেমনি কাজ। শপথ নিয়েই অ্যাকশন মুডে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। অবৈধ স্থাপনা হিসেবে শনাক্ত মুসলমানের ভবন ও তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের ‘বুজডোজার মুখ্যমন্ত্রী’ খ্যাত বিজেপির নেতা যোগী আদিত্যনাথ। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেন বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা, যার মধ্যে মুসলমানদের অংশই ছিল বেশি। কলকাতায় শুভেন্দুর নির্দেশে বুলডোজার চললো মুসলমানের স্থাপনায়।
অবশ্য মঙ্গলবার (১২ মে) কলকাতার তিলজলার জি জে খান রোডে অবস্থিত একটি চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘিরে শুরু হয়েছে বুলডোজার অ্যাকশন। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচতলার ওই ভবনে রজত আলী মোল্লা এবং মোহাম্মদ হাসানুর জামান নামে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো তিনজন।
এরপরই তদন্তে নামে পুলিশ প্রশাসন। কড়া বার্তা আসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর পক্ষ থেকেও। দেখা যায় বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে ওই ভবন। এরপরেই ওই ভবনের দুই মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার রাতে তাদের ভবন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
বুধবার (১৩ মে) সংবাদ সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলেছেন, “তিলজলার ঘটনায় প্রাথমিক রিপোর্টে যে তথ্য সামনে এসেছে তা আমাদের রাজ্যের পক্ষে অশনি সংকেত। ওই অবৈধ কারখানায় কোনো বিল্ডিং প্ল্যান নেই। অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থাও ঠিকঠাক ছিল না।”
“কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, ইকবালপুরসহ এই এলাকাতে যত অবৈধ কারখানা আছে সেখানে একটি অভ্যন্তরীণ অডিট করে যাদের বিল্ডিং প্ল্যান নেই তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পানি সরবরাহ বন্ধ করতে কলকাতা পৌরসভাকে নির্দেশ বলা হয়েছে। পাশাপাশি এক দিনের মধ্যে ওই অবৈধ কারখানাকে ভেঙে ফেলার জন্য পৌর ও নগর উন্নয়ন সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে,” বলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর ওই নির্দেশের পরেই কলকাতা পৌরসভা ও পুলিশের উপস্থিতিতে বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতার তিলজলায় ওই অবৈধ কারখানাটিকে বুলডোজার দিয়ে ভাঙার কাজ শুরু হয়। এর আগে ওই ভবনটিতে বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল।
তিলজলায় যেখানে বাড়ি ভাঙা হচ্ছে, বুধবার সন্ধ্যার পর সেখানে পৌঁছান রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “শহরের যেখানে যেখানে বেআইনি নির্মাণ আছে সেগুলো এনওসির জন্য আবেদন করুন। আমাদের আধিকারিকরা সেখানে নোটিফিকেশন করবে।”
তিনি বলেন, “যদি রেক্টিফিকেশন এর সুযোগ থাকে আমরা ব্যবস্থা করব। যদি সুযোগ না থাকে তাহলে সেগুলো ভাঙ্গা পড়বে। আজ যে বাড়িটিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে তাতে দুজন মানুষ একসাথে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার মত রাস্তা ছিল না। মালিকের গাফিলতিতে দুজন মারা পড়েছে।”
এদিকে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি রেল স্টেশন সংলগ্ন নৈহাটি ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র কলেজ রোডের পাশে রেলের জায়গায় বেআইনিভাবে গড়ে উঠেছিল তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়। বুধবার নোটিশ দিয়ে সেই কার্যালয়টিও ভেঙে দিয়েছে রেল প্রশাসন। এখানে নানান অপরাধমূলক কাজকর্ম হত বলে অভিযোগ।