যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বেইজিং সম্মেলনে চীন স্পষ্ট করেছে যে, তারা হরমুজ প্রণালি কোনো ধরনের বাধা বা টোল ছাড়াই পুনরায় চালু দেখতে চায়।
বুধবার রাতে বেইজিং থেকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে গ্রিয়ার বলেন, “চীনের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকা, টোল না থাকা ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ না থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকের আলোচনায় এটি স্পষ্ট হয়েছে এবং আমরা একে স্বাগত জানাই।” খবর আল-জাজিরার।
ইরানের প্রতি চীনের সমর্থনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে গ্রিয়ার বলেন, ওয়াশিংটন বিশ্বাস করে বেইজিং বাস্তবসম্মত ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, “চীনারা খুবই বাস্তববাদী এবং তারা এই ইস্যুতে ভুল পথে থাকতে চায় না। তারা এই অঞ্চলে শান্তি দেখতে চায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এই অঞ্চলে শান্তি চান। তাই আমাদের যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস আছে যে, তারা ইরানকে সব ধরনের বস্তুগত সহায়তা সীমিত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।”
এদিকে আল-জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি এক প্রতিবেদনে বলেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোন কোন জাহাজ বা নৌযান চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে, সেই বিস্তারিত তথ্য ফাঁস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান।
তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরজিসির একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বুধবার রাত থেকে অন্তত ৩০টি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ফারস নিউজের তথ্যমতে, এই জাহাজগুলোর মধ্যে কিছু চীনা কোম্পানির মালিকানাধীন। যা মূলত হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের নতুন ‘মহাপরিকল্পনা’র একটি অংশ।
ইরান বলছে, প্রণালিটি পুরোপুরি খোলাও নয়, আবার পুরোপুরি বন্ধও নয়। তাদের কৌশল হলো- “প্রণালিটি সবার জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু আমাদের শত্রুদের জন্য বন্ধ।” তেহরান এখন এই রণকৌশলটিই প্রয়োগ করার চেষ্টা করছে।