আন্তর্জাতিক

ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি-আরাঘচি বৈঠক

ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দিনব্যাপী ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানীতে আসা আরাঘচি বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

বৈঠকে আরাঘচি তেহরান ও দিল্লির মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

বৃহস্পতিবার এর আগে আরাঘচি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই পক্ষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্য, ট্রানজিট ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

আরাঘচি পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান উত্তেজনা এবং যুদ্ধের পরিণতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে ও সংঘাত বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।” অজিত ডোভাল এ সময় চলমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শান্তি ফিরিয়ে আনতে তিনি ভারতের সহায়তা প্রদানের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।

প্রেস টিভির প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গেও বৈঠক করেন আরাঘচি। এসময় দুই নেতা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গঠন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একমত হন।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন হাসানের সঙ্গে আলাপকালে আরাঘচি সাম্প্রতিক যুদ্ধকে অঞ্চলের জন্য একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধের প্রথম দিনে মিনাবে একটি স্কুলে মার্কিন হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ইরান নতুন করে চিন্তাভাবনা করছে বলেও তিনি জানান।

ব্রিকস সম্মেলনে ইরানের এই নিবিড় কূটনৈতিক সফরের অংশ হিসেবে আরাঘচি মিশর, ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের মাধ্যমে ইরান বিশ্বমঞ্চে বিশেষ করে ব্রিকস দেশগুলোর সঙ্গে তাদের কৌশলগত অবস্থান আরো শক্ত করতে চাইছে।