ট্রাম্প তার দুই দিনের চীন সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরে যাচ্ছেন। দুদিন ধরে চীন আর দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করা সত্ত্বেও, বড় কোনো অর্জন ছাড়াই ফিরছেন তিনি।
আমেরিকার প্রধান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর দেশে ট্রাম্পের এই সফরটি ছিল ২০১৭ সালের পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম সফর। গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার পতনশীল জনসমর্থন বাড়াতে বাস্তব ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যেই এই সফরটি করা হয়েছিল।
সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ থেকে শুরু করে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির গোপন বাগান পরিদর্শন পর্যন্ত, শীর্ষ সম্মেলনটি ছিল জাঁকজমকে পরিপূর্ণ। কিন্তু রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শি ট্রাম্পকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন, চীনের শীর্ষ উদ্বেগের বিষয় তাইওয়ানকে নিয়ে যেকোনো ধরনের ভুল পদক্ষেপ সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে।
ট্রাম্প এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং পুরো সফরজুড়ে অস্বাভাবিকভাবে সংযত ছিলেন। তার তাৎক্ষণিক মন্তব্যগুলো মূলত শি-এর উষ্ণতা ও মর্যাদার প্রশংসায়ই সীমাবদ্ধ ছিল।
চীনা নেতাদের কার্যালয় সংবলিত সাবেক রাজকীয় উদ্যান ঝংনানহাই কমপ্লেক্সে তাদের শেষ বৈঠকে শি-কে ট্রাম্প বলেছেন, “এটি একটি অসাধারণ সফর ছিল। আমার মনে হয়, সফর থেকে অনেক ভালো কিছু হয়েছে।”
এই সফরে ট্রাম্প বোয়িংয়ের বিমান বিক্রির চুক্তির মতো তাৎক্ষণিক ব্যবসায়িক সাফল্যের সন্ধান করছিলেন, যা বিনিয়োগকারীদের প্রভাবিত করতে পারেনি। তিনি ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, চীন ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে চীন বছরে অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলারের কৃষি পণ্য ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি দেবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, চীন এ দুটি বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
দুই শীর্ষনেতার মধ্যে ইরান নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু শি জিনপিংয়ের অবস্থান সম্পর্কে ট্রাম্পের প্রকাশ্য মন্তব্য উত্তরের চেয়ে বেশি প্রশ্ন তৈরি করেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীন ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করবে না, কিন্তু ‘তারা সেখান থেকে তাদের তেলের একটি বড় অংশ কেনে এবং তারা তা চালিয়ে যেতে চায়।’ তার মানে, ইরানের তেলের ব্যাপারে ট্রাম্পের বিধিনিষেধ মানতে চীন যে ইচ্ছুক নয়-বেইজিং সেই বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের জবাবে চীন বিরল খনিজের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে সমস্যাটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের এই সফরে সেই খনিজ রপ্তানি নিয়ে কোনো সুরাহা হয়নি।
বেইজিং থেকে বিদায়ের আগে সকালে ট্রাম্পকে জংনানহাই লিডারশিড কম্পাউন্ড ঘুরে দেখান শি জিনপিং। এখানে জিনপিংসহ চীনের শীর্ষ নেতারা বসবাস করেন ও কাজকর্ম পরিচালনা করেন। কম্পাউন্ডের বাগান ঘুরে দেখার সময় সেখানে থাকা গোলাপের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পকে গোলাপের বীজ উপহার দেওয়ার কথা বলেছেন জিনপিং।
ট্রাম্পের এই সফরে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সম্পর্কে যে মেঘ ছিল, তা হয়তো কেটে গেছে। সব মিলিয়ে এই সফরে ট্রাম্পের খুব বেশি বাণিজ্যিক অর্জন না হলেও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে গোলাপ ফুলের বীজ তিনি নিশ্চিতই পেয়েছেন।