মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবারো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলে মনে করছেন মার্কিন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কুইন্সি ইনস্টিটিউটের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি।
সোমবার (১৮ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন।
ত্রিতা পারসি জানান, “ওয়াশিংটন ও তেহরান- উভয় পক্ষই বর্তমানে এই ধারণায় বিশ্বাসী হয়ে উঠছে যে, আরেক দফা সামরিক সংঘাত ভবিষ্যতে যেকোনো কূটনৈতিক আলোচনায় তাদের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করতে পারে।”
তিনি বলেন, “আমি মনে করি (ট্রাম্প) অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।”
তার মতে, “ট্রাম্প প্রশাসন মুখে যা-ই বলুক না কেন, ভেতরে ভেতরে তারা এটি স্পষ্ট বুঝতে পারছে যে, তাদের আগের যুদ্ধ ও ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার জন্য দেওয়া একের পর এক কঠোর অবরোধ- উভয় পরিকল্পনাই ব্যর্থ হয়েছে। আর এই ব্যর্থতা আড়াল করতেই এখন অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে।”
পারসি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “উভয় পক্ষই দিন দিন বিশ্বাস করছে যে, আরেক দফা লড়াই তাদের ভবিষ্যতের আলোচনায় বাড়তি সুবিধা বা অগ্রাধিকার এনে দেবে।”
তিনি যোগ করেন, বিশেষ করে ইরানের ক্ষেত্রে, “যারা আগে এই যুক্তিটি দিয়েছিলেন, তারা মনে করছেন যে বর্তমান যুদ্ধ যেভাবে পরিচালিত হয়েছে তাতে তাদের কথাই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান কূটনৈতিক অচলাবস্থার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ত্রিতা পারসি জানান, “ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কোনো ধরনের সম্মানজনকভাবে বা মুখ রক্ষা করে আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দিতে নারাজ বলে মনে হচ্ছে। আর এটিই আলোচনার মূল বাধা।”
তিনি উল্লেখ করেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করার তীব্র চেষ্টা চলছে, যাতে যেকোনো চুক্তি- তাতে আমেরিকার বড় কোনো ছাড় থাকলেও- বিশ্বের সামনে এমনভাবে উপস্থাপিত হয় যেন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, বিশেষ করে খোদ ট্রাম্পের কাছে নতি স্বীকার করেছে।”
ত্রিতা পারসি মনে করেন, “উভয় পক্ষই স্বাভাবিকভাবে নিজেদের বিজয়ী হিসেবে দেখতে চায়। কিন্তু ট্রাম্পের নীতি হলো- অপর পক্ষের বিজয়ের দাবিকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে একচ্ছত্র বিজয়ের আখ্যান (ন্যারেটিভ) তৈরি করা। উভয় পক্ষের এই ‘নিজেকে বিজয়ী দেখানোর’ অনড় মনোভাবের কারণেই সংকটের কোনো সমাধান হচ্ছে না।”