ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো প্রতিক্রিয়া ও মতামত পর্যালোচনা করছে তেহরান। দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া নিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই বার্তা বিনিময় চলছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা নূর নিউজ-এর তথ্যমতে, একটি প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির শব্দচয়ন ও শর্তাবলী নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে একাধিকবার বার্তা বিনিময় করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ১৪ দফার মূল খসড়ার ওপর ভিত্তি করে এই বার্তা বিনিময় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আমরা মার্কিন পক্ষের মতামত পেয়েছি এবং বর্তমানে তা পর্যালোচনা করে দেখছি।” পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভীর ইরান সফরের সময় দেশটির মুখপাত্র এই মন্তব্য করেন।
এদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানকে আধুনিক ইতিহাসের ‘নজিরবিহীন’ সামরিক অভিযানের মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
বুধবার (২০ মে) হোয়াইট হাউজের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তেহরানের বর্তমান প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি বড় ধরনের আল্টিমেটামের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।
মিলার বলেন, “ইরানের এই নতুন দলটিকে এখন একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা হয় এমন একটি চুক্তিতে সই করতে সম্মত হোক যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সন্তোষজনক, অন্যথায় তাদের আমাদের সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে এমন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে যার নজির আধুনিক ইতিহাসে দেখা যায়নি।”
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের সামরিক হুমকির মুখেও নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা জানান দিচ্ছে তেহরান। বুধবার (২০ মে) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘রিয়া নভোস্তি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একটি সামরিক সূত্র বলেছে, তেহরানের কাছে এমন কিছু উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র রয়েছে যা তারা এখনো কোনো যুদ্ধে ব্যবহার করেনি।
প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতার দিক থেকে ইরানের কোনো ঘাটতি নেই উল্লেখ করে সূত্রটি সতর্ক বলেছে, ইরানের সব সশস্ত্র বাহিনী ‘ট্রিগারে আঙুল রেখে’ যেকোনো ভবিষ্যৎ আক্রমণের জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইরান এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ও বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা স্থায়ী কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগামী জাহাজগুলোর ওপর কঠোর অবরোধ বজায় রেখেই সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন, যা নিয়ে বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে দরকষাকষি চলছে।