আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধে ইসরায়েলের অস্ত্র সাশ্রয়, মার্কিন মজুদ শেষ

ইরান যুদ্ধের সময় ইসরায়েল নিজেদের বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র (ইন্টারসেপ্টর) সংরক্ষণ করে রেখেছিল, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মজুদের একটি বড় অংশ ব্যবহার করে শেষ করেছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) অজ্ঞাতপরিচয় মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। খবর রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির। 

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক তিনজন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন বাহিনী ২০০টিরও বেশি অত্যাধুনিক ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, যা তাদের মোট মজুদের প্রায় অর্ধেক। এছাড়া আরো ১০০টিরও বেশি এসএম-থ্রি ও এসএম-সিক্স ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর বিপরীতে, ইসরায়েল ব্যবহার করেছে মাত্র ১০০টি ‘অ্যারো’ এবং ৯০টি ‘ডেভিডস স্লিং’ ইন্টারসেপ্টর। এমনকি এর মধ্যে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ইয়েমেন ও লেবানন থেকে ছোঁড়া কম দূরত্বের ও সাধারণ রকেটের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল।

মার্কিন থিংক ট্যাংক ‘স্টিমসন সেন্টার’-এর সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিয়েকোর উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে,“যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার সিংহভাগ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল, অন্যদিকে ইসরায়েল তার নিজস্ব অস্ত্রের মজুদ বাঁচিয়ে রেখেছিল।”

ওয়াশিংটন পোস্ট আরো লিখেছে, এই পরিসংখ্যানগুলো একটি ‘অসম পরিস্থিতি’ নির্দেশ করে। যদিও পেন্টাগন এবং ইসরায়েলি সরকার উভয়ই সম্পদের ভারসাম্যকে সঠিক বলে দাবি করেছে।

রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি বলছে, পেন্টাগন এই যুদ্ধে সরাসরি খরচের পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন ডলারের কম বলে দাবি করলেও সামরিক বিশ্লেষকরা তা মানতে নারাজ। তাদের মতে, ব্যবহৃত গোলাবারুদ প্রতিস্থাপন, হারানো সামরিক সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং মার্কিন অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হিসাব করলে এই যুদ্ধের মোট খরচ ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

মার্কিন গণমাধ্যমের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের ইন্টারসেপ্টরের মজুদ যখন ফুরিয়ে আসছে, তখন ইরান তাদের আক্রমণাত্মক ক্ষমতার বড় অংশই টিকিয়ে রেখেছে। তারা প্রায় ৭০ শতাংশ মোবাইল লঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ধরে রাখতে পেরেছে। এছাড়া মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত ভূগর্ভস্থ সামরিক ঘাঁটিগুলোর ৯০ শতাংশই তারা পুনরায় সচল করে ফেলেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য বারবার নতুন হামলার হুমকি দিলেও, পর্দার পেছনের চিত্র ভিন্ন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এপ্রিলের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বারবার বৃদ্ধি পাওয়ায় এটাই স্পষ্ট যে- ট্রাম্প প্রশাসন এই ব্যয়বহুল ও অভ্যন্তরীণভাবে অপ্রিয় সংঘাত থেকে সম্মানজনকভাবে বের হওয়ার পথ খুঁজছে।

তবে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে, ইরান দুর্বল থাকা অবস্থাতেই যেন ‘কাজ শেষ’ (হামলা চালিয়ে ইরানের পারমাণবিক বা সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস) করা হয়।

এদিকে তেহরান নিশ্চিত করেছে, তারা ওয়াশিংটনের দেওয়া নতুন শান্তির প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “জোরপূর্বক ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো মার্কিন প্রশাসনের একটি বিভ্রম ছাড়া আর কিছুই নয়।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আলোচনা তখনই সফল হবে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজে ‘জলদস্যুতা’ বন্ধ করবে এবং ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত দেবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলকেও লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।