পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্য হোল্ডিং সেন্টার চালু করা হবে। গত রবিবার (২৪ মে) এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর সোমবারের (২৫ মে) মধ্যে রাজ্যের জেলায় জেলায় চালু হয়ে যায় হোল্ডিং সেন্টার।
সোমবার প্রথম দিনেই ১২ জন বাংলাদেশিকে হোল্ডিং সেন্টারে আটক করে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন। আর এরপরেই বাংলাদেশে ফিরে যেতে ভারতীয় সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ঢল নেমেছে। এর আগে, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু হওয়ার পরেও যারা অবৈধভাবে ভারতে থেকে গিয়েছিল, মূলত তারাই দেশে ফিরে যেতে ভিড় জমাচ্ছেন সীমান্তে।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর থানার বিঠারি হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্থ হাকিমপুর চেকপয়েন্টে দেখা গেছে লম্বা লাইন। ভিড় জমাচ্ছেন বাংলাদেশি নাগরিকরা। অবৈধভাবে যারা ভারতে বসবাস করতেন, যারা দালালদের ধরে এদেশে প্রবেশ করেছিলেন, তারা এবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন।
সীমান্তে মঙ্গলবারের একদিনেই ভিড় করেছেন নারী-শিশুসহ অন্তত ৬০০ বাংলাদেশি নাগরিক। যারা এতদিন ভারতে এসে আত্মগোপন করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে, বিভিন্ন পেশায় যুক্ত ছিলেন, তারা দেশে ফেরার জন্য স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে উপস্থিত হয়েছেন।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, অবৈধ বাংলাদেশি বাসিন্দাদের শনাক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে, এরপর বিএসএফ তাদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করবে। এই ধরনের পদক্ষেপ শুরু হওয়ার আগেই শত শত বাংলাদেশি সীমান্তে ভিড় জমাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোট প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট করার ঘোষণা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ক্ষমতায় আসার ২০ দিনের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার।