মার্কিন মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েল সরকারের মধ্যে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা হিজবুল্লাহ প্রত্যাখ্যান করেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েল বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং বলেছে যে তারা দক্ষিণ থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না।
যুক্তরাষ্ট্র বুধবার জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর গোলাবর্ষণ বন্ধ করা এবং সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণ লেবাননের এলাকাগুলো থেকে তাদের যোদ্ধাদের সরিয়ে নেওয়ার শর্তে লেবানন ও ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে।
হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেম বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও লেবাননের সরকারি কর্মকর্তাদের এই আলোচনাকে নির্লজ্জ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি ওয়াশিংটনের ঘোষণাকে ‘লেবাননের জনগণের একটি অংশের নির্মূল এবং বাকিদের দাসত্বে আবদ্ধ করার একটি পথনির্দেশিকা’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
একটি লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “যতদিন দখলদারিত্ব থাকবে, প্রতিরোধও চলবে।”
২ মার্চ হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা পুনরায় শুরু হয়। ওই সময় মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণের মুখে তেহরানের সমর্থনে গোষ্ঠীটি গুলি চালায়। এপ্রিল থেকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে।
এই যুদ্ধ আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরান লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
কাসেম জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতিতে অবশ্যই দক্ষিণ লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যেখানে ইসরায়েল একটি স্বঘোষিত নিরাপত্তা অঞ্চল দখল করেছে। তাদের দাবি, এর উদ্দেশ্য হলো হিজবুল্লাহর হামলা থেকে উত্তর ইসরায়েলকে রক্ষা করা।
কাসেম বলেন, “যতদিন আমাদের গ্রামগুলো অনিরাপদ, বোমাবর্ষণে বিধ্বস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত থাকবে এবং আমাদের লোকজনকে হত্যা করা হবে, ততদিন উত্তর ইসরায়েলের শহরগুলো নিরাপদ থাকবে না।”