আন্তর্জাতিক

ফিলিপাইনে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ১৯

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) ভোরে আঘাত হানা ভূমিকম্পে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়েছে। উদ্ধারকাজ এখনো চলছে। খবর বিবিসির।

স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। 

ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যদিও কয়েক ঘণ্টা পর কিছু সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পর অঞ্চলজুড়ে ১.৩ থেকে ৬.৭ মাত্রার আরো ১৩০টিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ছবিতে বহু ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন ‘জলিবি’র একটি রেস্তোরাঁ সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়।

বিবিসিকে স্থানীয় একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাউথ কোটাবাতো, সুলতান কুদারাত, সারাঙ্গানি প্রদেশ এবং জেনারেল সান্তোস শহর জুড়ে অন্তত ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল (এনডিআরআরএমসি) জানিয়েছে, তারা পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী দলগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরকারিভাবে চূড়ান্ত হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হবে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এক বিবৃতিতে বলেন, “সব সরকারি সংস্থা দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। জাতীয় সরকার অত্যন্ত তৎপর রয়েছে এবং এই বিপদে মিন্দানাওবাসীকে একা ফেলে যাওয়া হবে না।”

ভূমিকম্পের দিনটি ফিলিপাইনের নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন ছিল। ভূমিকম্পের পরপরই আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ক্লাস স্থগিত করার নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট মার্কোস।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি থাকা উপকূলীয় সারাঙ্গানি প্রদেশে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে পরবর্তীতে তা আবার সচল করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অস্থির ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে প্রায়শই ভূমিকম্প হয়ে থাকে।এখানকার বেশিরভাগ ভূমিকম্পই মৃদু এবং তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। তবে কিছু ভূমিকম্প বেশ মারাত্মক রূপ নেয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটির কেন্দ্রীয় ভিসায়াস অঞ্চলে ৬.৯ মাত্রার এক ভূমিকম্পে ৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।